বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হওয়ার অনেক আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। আজ যার নামের পাশে অসংখ্য গোল, রেকর্ড আর সাফল্যের ছড়াছড়ি, সেই রোনালদোকেও একসময় খাবারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।
পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে থাকার সময় ছোট্ট রোনালদো ও তার কয়েকজন সতীর্থ মাঝে মাঝে কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর পেছনের দরজায় যেতেন। রাতের শেষে কোনো খাবার অবশিষ্ট আছে কি না, সেটিই জানতে চাইতেন তারা।
সেই সময় এডনা নামের এক কর্মী এবং তার কয়েকজন সহকর্মী তাদের সাহায্য করতেন। দিনের শেষে বেঁচে যাওয়া বার্গার দিয়ে দিতেন ক্ষুধার্ত তরুণ ফুটবলারদের।
তাদের কাছে হয়তো সেটি ছিল সামান্য সহায়তা, কিন্তু রোনালদোর কাছে সেই খাবার ছিল কঠিন সময়ে ক্ষুধা মেটানোর বড় এক মাধ্যম।
বছর গড়িয়ে যায়। সেই ক্ষুধার্ত কিশোর একসময় হয়ে ওঠেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন। কিন্তু সাফল্যের চূড়ায় উঠেও ছোটবেলার সেই মানুষগুলোর কথা ভুলে যাননি তিনি।
পরবর্তীতে রোনালদো জানান, বহু বছর ধরে তিনি সেই নারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন, যারা একসময় তাকে সাহায্য করেছিলেন। কারণ জীবনের কঠিন সময়ে পাওয়া সেই মানবিক আচরণের জন্য তিনি সরাসরি কৃতজ্ঞতা জানাতে চেয়েছিলেন।
দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে এডনার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পুরনো সেই স্মৃতি আবার সামনে আসে, যে সময় কয়েকটি সাধারণ বার্গার কিছু তরুণের কাছে ছিল অনেক বড় ব্যাপার।
কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে রোনালদো তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানান এবং সাহায্যের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেন। রোনালদোর কাছে বিষয়টি শুধু অর্থ বা উপহারের ছিল না। বরং এটি ছিল সেই মানুষদের মনে রাখার চেষ্টা, যারা কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ফুটবল তাকে দিয়েছে খ্যাতি, সম্পদ ও অসংখ্য অর্জন। কিন্তু ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে- মানুষের প্রয়োজনের সময়ে করা একটি ছোট সহায়তাও কখনো কখনো সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে।সূত্র ঃ ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ।
Leave a Reply