1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
August 6, 2026, 11:25 pm

খুলনা নগরীরতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ৯ বছরের শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

খুলনা প্রতিনিধি ঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Tuesday, June 23, 2026
  • 32 দেখা হয়েছে

খুলনা নগরীরতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাত ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীর দুই চোখের নিচে জমাট বাঁধা রক্ত, ফুলে বিকৃত হয়ে যাওয়া মুখমণ্ডল, গলার নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষরণের দাগ ৯ বছর বয়সী শিশুর এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বজনরা।

অভিযোগ উঠেছে, খুলনা নগরীর একটি হেফজ মাদ্রাসায় শিক্ষকের নির্মম বেত্রাঘাতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ জুন রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তার পাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে।

গুরুতর আহত হওয়ার পরও শিশুটির পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বরং প্রায় ২৪ ঘণ্টা ঘটনাটি গোপন রাখা হয়। পরে অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী ইসমাইল শিকদারের (৯) পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতালে নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানতে পারেন, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে চোখের নিচে, মুখমণ্ডলে এবং গলার নিচ পর্যন্ত রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, প্রাথমিক চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি না হলে শিশুটির মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার বলেন, ‘আমার ছেলেকে এভাবে মারা হয়েছে, অথচ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আমাকে জানানো হয়নি। পরে অন্যের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছেলেকে উদ্ধার করি। দুই দিন পর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এভাবে কোনো শিক্ষক কোনো শিশুকে মারতে পারে?

তিনি বলেন, ‘আগেও ওই শিক্ষক শিশুদের মারধর করতেন বলে শুনেছি।আগে ছেলে সুস্থ হোক, তারপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ভাবব।

ওমর ফারুক নিজেও একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেছেন।পারিবারিক সিদ্ধান্তেই ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুই তলা ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ আবদুর রহমান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কোনো ধরনের সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ৮ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক হাফেজ মাসুদ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে আবদুর রহমানের কাছ থেকে শুনেছেন, শিশুটি পড়া না পারায় তাকে বেত দিয়ে মারা হয়। একপর্যায়ে তার মাথা দেয়ালে আঘাত করে।

তিনি বলেন, ‘রাতে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরদিন সকালে চোখ ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়। পরে বরফ দেওয়া হয়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও কেন শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি এবং কেন তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, পুরনো ভবনের কয়েকটি কক্ষে শিশুরা কোরআন পড়ছে। তবে বারবার চেষ্টা করেও কোনো শিক্ষার্থী কথা বলতে রাজি হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, তারা ভীত ও আতঙ্কগ্রস্ত।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটির বাবাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পরিবার মামলা করলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira