প্রতিদিন অসংখ্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করলেই যে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। লিংকডইনের ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ফিশার এই প্রবণতাকে ‘ডুমজবিং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জানান, চাকরির ওয়েবসাইট বা লিংকডইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নির্বিচারে আবেদন করার চেয়ে কৌশলী হওয়া অনেক বেশি কার্যকর।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রথম পরামর্শ হলো, নিজের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করা। আপনি কোন শিল্পখাত, কোন ধরনের কাজ এবং কোন ভৌগোলিক এলাকায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তা আগে ঠিক করুন। এরপর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী নিজের সিভি ও পেশাগত প্রোফাইল সাজান। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা খুঁজছেন, সেগুলোর ওপর আলোকপাত করা জরুরি। সিভিতে শুধু দায়িত্বের তালিকা না দিয়ে, সেই কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কী ধরনের সাফল্য বা পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। উদাহরণস্বরূপ, ‘দল পরিচালনা করেছি’ না লিখে দল পরিচালনার মাধ্যমে কী অর্জন হয়েছে, তা উল্লেখ করলে আপনার সক্ষমতা নিয়োগদাতার কাছে স্পষ্ট হবে।
নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফিশার। শুধু চাকরির জন্য পরিচিতদের কাছে ধরনা না দিয়ে, সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীদের কাজ অনুসরণ করুন এবং তাদের সঙ্গে অর্থবহ যোগাযোগ গড়ে তুলুন। লিংকডইনে পরিচিতদের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, তবে প্রথম যোগাযোগেই সরাসরি চাকরি না চেয়ে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়াটি মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় আবেদন করেও সাড়া না পেলে হতাশা আসা স্বাভাবিক। তাই সারা দিন চাকরি খোঁজার পরিবর্তে একটি টেকসই রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন বা একজন পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মতো ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এছাড়া, বিসিএস বা চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও এআই সম্পর্কে জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পখাতে যাঁরা দক্ষ নেতৃত্ব ও যোগাযোগের জন্য পরিচিত, তাঁদের কাজের ধরন পর্যবেক্ষণ করে শেখার চেষ্টা করুন। শুরুতেই পছন্দের ‘পারফেক্ট’ চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তাই খণ্ডকালীন কাজ, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক পদ বা পছন্দের বাইরের কোনো সুযোগও বিবেচনা করা যেতে পারে।
পরিশেষে, চাকরি খোঁজা যেন কেবল আবেদন করার প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ, পেশাগত সম্পর্ক তৈরি এবং সিভিতে নিজের কাজের বাস্তব প্রভাব তুলে ধরাই সফল ক্যারিয়ার গড়ার মূল চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, সোনারগাঁও হোটেলের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগ্যতা থাকা জরুরি। চাকরির আরও তথ্য: দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির আবেদন করতে করতে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন চাকরিপ্রার্থীরা।
Leave a Reply