1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
September 23, 2026, 7:05 am

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইস্যুতে এশিয়ান ফুটবলে বাড়ছে বিভাজন

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, August 19, 2026
  • 25 দেখা হয়েছে

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কের জেরে এশিয়ান ফুটবলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। মূলত ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে এএফসির যৌথ অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে কিউএফএ তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।

কিউএফএ সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতিকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন যে, শেখ সালমান নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। থানি দাবি করেন, তিনটি কনফেডারেশনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এএফসি তার সঙ্গে কিংবা কিউএফের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি। কাতারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর জবাব দিয়েছেন শেখ সালমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এশিয়ান ফুটবলের মৌলিক গুরুত্বের বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান রক্ষায় সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও দায়িত্ব তার রয়েছে।

শেখ সালমান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, এএফসির গঠনতন্ত্র তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছে এবং সভাপতি হিসেবে এশীয় ফুটবলের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা তার প্রধান কাজ। তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতির কারণে ওই যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এএফসির নীরব থাকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ হতো।’ আল-থানি তার চিঠিতে জানতে চেয়েছিলেন, এএফসি কোন ভিত্তিতে ৪৭টি সদস্য দেশের হয়ে কথা বলার অধিকার রাখে। এর জবাবে শেখ সালমান অতীতে এএফসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার নজির তুলে ধরেন।

উদাহরণ হিসেবে শেখ সালমান ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের প্রতি এএফসির জোরালো সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন বিশ্বজুড়ে কাতারকে নিয়ে ব্যাপক চাপ ও সমালোচনা চলছিল। তিনি বলেন, ‘সেই সময় প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া কিউএফএর তাৎক্ষণিক স্বার্থের অনুকূলে থাকায় তারা কোনো প্রক্রিয়াগত আপত্তি তুলেছিল বলে আমার মনে পড়ে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের এসব ঘটনায় কিউএফএ একই ধরনের প্রক্রিয়া মেনে নিয়েছিল এবং তা থেকে সুবিধাও পেয়েছিল। তাই এবার তাদের হঠাৎ ও বেছে বেছে তোলা আপত্তির সঙ্গে আগের অবস্থানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

কাতার ও এএফসির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মূল সূত্রপাত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর। গত মাসের শেষদিকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠনের একটি প্রস্তাব দেন ফিফা সভাপতি, যার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল এফএফইর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।

গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। তিন কনফেডারেশন দাবি করেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। এই পরিস্থিতির বিপরীতে কাতার, লেবানন, মরক্কো, সুদান, মিশর এবং মৌরিতানিয়ার জাতীয় ফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয়। এরপরই মূলত এএফসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই চিঠি দেয়, যা এশিয়ান ফুটবলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira