শ্যাম্পু করার পর চুল বেশ ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত মনে হলেও, দিন না যেতেই চুলের গোড়া চিটচিটে হয়ে লেগে যাচ্ছে? মাথার ত্বক ভারী মনে হওয়া বা চুল দ্রুত তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি অনেকেরই পরিচিত। বাংলাদেশের আর্দ্র ও গরম আবহাওয়ায় ঘাম ও ধুলাবালু এর বড় কারণ হলেও, কেবল আবহাওয়াকে দায়ী করা সঠিক নয়। আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, ভুল হেয়ার প্রোডাক্টের ব্যবহার, এমনকি মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে। রিয়েল সিম্পল ও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, চুল বারবার চিটচিটে হয়ে যাওয়ার পেছনে থাকা ১০টি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো।
প্রথমত, অপরিষ্কার চিরুনি ব্যবহারের ফলে চুলে ময়লা ফিরে আসে। চিরুনিতে আটকে থাকা মৃত কোষ, ধুলোবালি ও হেয়ার প্রোডাক্টের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার না করলে তা পুনরায় চুলে লেগে যায়। তাই নিয়মিত চিরুনি পরিষ্কার রাখা জরুরি, বিশেষ করে যারা নিয়মিত জেল বা সিরাম ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়ত, রাতে চুল খুব শক্ত করে বেঁধে ঘুমানোর অভ্যাস চুলের গোড়ায় তেল জমিয়ে ফেলে। এতে সকালে চুল চিটচিটে মনে হতে পারে, তাই রাতে চুল ঢিলেঢালাভাবে বাঁধাই শ্রেয়।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতা চুলকে ভারী করে তোলে। বাইরে থেকে ফেরার পর মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। চতুর্থত, অকারণে বারবার চুলে হাত দেওয়া একটি খারাপ অভ্যাস। হাতের আঙুলে থাকা তেল ও ময়লা বারবার চুলে হাত দেওয়ার ফলে চুলের গোড়ায় স্থানান্তরিত হয়, যা চুলকে দ্রুত তৈলাক্ত করে তোলে। পঞ্চমত, শাইন সিরাম বা স্টাইলিং পণ্যের ভুল ব্যবহার। সিরাম চুলের গোড়ায় না লাগিয়ে মাঝামাঝি থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিত, অন্যথায় চুল চিটচিটে দেখাবে।
ষষ্ঠত, নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন না করা। ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত পণ্য চুলের গোড়ায় জমে থাকতে পারে। কন্ডিশনার ব্যবহারের সময়ও মাথার ত্বক এড়িয়ে চলাই ভালো। সপ্তম কারণটি হলো ভুল শ্যাম্পু রুটিন। চুল চিটচিটে দেখলেই বারবার শ্যাম্পু করা ঠিক নয়, এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট হয়ে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। তবে তৈলাক্ত মাথার ত্বকের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
অষ্টম কারণ হিসেবে হরমোনের পরিবর্তনের কথা বলা যায়। মাসিক চক্রের বিভিন্ন সময়ে বা গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের কারণে মাথার ত্বকে তেল তৈরির পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নবম কারণটি হলো মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের মতো সমস্যায় মাথার ত্বক তৈলাক্ত ও চুলকানিযুক্ত হতে পারে। দশম কারণ হিসেবে পুষ্টির ঘাটতি বা সুষম খাবারের অভাবকে চিহ্নিত করা যায়, যা চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে কেবল চিটচিটে হওয়ার কারণে ভিটামিনের ঘাটতি হয়েছে এমনটা ধরে নিয়ে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।
চুল চিটচিটে হওয়ার সমস্যা সমাধানে প্রথমেই শ্যাম্পু বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো পর্যালোচনা করুন। নিয়মিত চিরুনি পরিষ্কার রাখা, অকারণে চুলে হাত না দেওয়া এবং চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক রুটিন মেনে চলাই সমাধানের চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা বা শ্যাম্পু একদম বন্ধ করে দেওয়া—দুইটিই ভুল। মাথার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। যদি এই সমস্যাগুলোর পাশাপাশি অতিরিক্ত খুশকি, চুলকানি, লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক চুল পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কখনো আবার চুল পরিষ্কার রাখার অতিরিক্ত চেষ্টাই উল্টো সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকে চুল জটমুক্ত রাখতে রাতে শক্ত করে পনিটেল বা খোঁপা করে ঘুমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুলকে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে থাকার সুযোগ দিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গরমে শরীরের মতো মাথার ত্বকেও ঘাম বেশি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কখনো চুল ঠিক করতে, কখনো কপাল থেকে সরাতে, আবার কখনো এমনিই আঙুল চালাতে আমরা বারবার চুলে হাত দিই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার কারও চুলে ভালো কাজ করলেই সেটি আপনার চুলের জন্যও উপযুক্ত হবে, এমন কোনো কথা নেই।
Leave a Reply