শাড়ি পরার প্রতি ছোটবেলা থেকেই বিশেষ আগ্রহ ছিল খাদিজার। তবে শাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্লাউজ খুঁজে পাওয়াটা বরাবরই চ্যালেঞ্জিং মনে হতো তাঁর কাছে। বাজারে নিজের পছন্দমতো নকশার ব্লাউজ না পাওয়ায় তিনি নিজেই ডিজাইন শুরু করেন। এই শখ থেকেই পরবর্তীতে ব্যবসার পরিকল্পনা মাথায় আসে। ২০২০ সালের জুন মাসে অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘চিত্রাঙ্গদা’।
প্রাথমিক পর্যায়ে নকশা তৈরি, অর্ডার গ্রহণ এবং পণ্য সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়াটি বাসা থেকেই পরিচালনা করতেন খাদিজা। ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে তিনি পশ্চিম কাজীপাড়ায় একটি ছোট জায়গা ভাড়া নেন। শুরুতে এটি কেবল অফিস ও পণ্য সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হলেও, পরে তা চিত্রাঙ্গদার ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ঠিকানা প্রকাশের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ক্রেতারা সেখানে আসতে শুরু করেন, যা খাদিজাকে নতুন করে ডিসপ্লে কর্নার তৈরিতে উৎসাহিত করে।
বর্তমানে চিত্রাঙ্গদার নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে এবং ধানমন্ডির হাটকাহনসহ চট্টগ্রামে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। কারখানা, অফিস ও অনলাইন কার্যক্রম মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ জন কর্মী কাজ করছেন। খাদিজা নিজেই ব্লাউজের সব নকশা করেন। তাঁর ডিজাইনে লেস, এমব্রয়ডারি এবং বিভিন্ন ধরনের কাটের বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। ব্যাকলেস, ডিপ নেক ও প্রিন্সেস কাটসহ নানা ধরনের ব্লাউজ তৈরিতে দেশি-বিদেশি কাপড় ব্যবহার করা হয়। ব্লাউজের পাশাপাশি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের তাঁতের শাড়িও তাদের সংগ্রহে থাকে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্প রয়েছে এই অঙ্গনে। যেমন, মডেল মাশিয়াত মাত্র ৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে পুনরায় র্যাম্পে ফিরেছেন, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply