1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
September 18, 2026, 10:33 pm

আইফোন কেনার টাকা জোগাতে দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রি করলেন বাবা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, August 30, 2026
  • 30 দেখা হয়েছে

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার টাকা জোগাড় করতে নিজের দেড় বছরের সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে মো. মারুফ নামে এক কাঠমিস্ত্রির বিরুদ্ধে। এই অমানবিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মারুফ উপজেলার বেতাগী বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। ঘটনার পর থেকে শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার দেড় বছরের ছেলে মুসাকে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, শিশুটিকে রমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের দাবি, আইফোন কেনার উদ্দেশ্যেই মারুফ এই কাজ করেছেন। জানা গেছে, সন্তানকে নিয়ে মারুফ ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে পুরোনো ফোন পাল্টে নতুন আইফোন কেনেন। এরপর তিনি তার মামা বাহাদুর মিয়ার বাসায় যান। সেখানে পরিবারের সদস্যরা চাপ সৃষ্টি করলে মারুফ স্বীকার করেন যে, তিনি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ইমরান হোসেনের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করেছেন।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, শনিবার সকালে নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মারুফ বের হয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি তার নাতিকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ঢাকার সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন মারুফ। তাদের সংসারে মুসার জন্ম হয়। মাসখানেক আগে পারিবারিক কলহের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়ি চলে যান এবং মারুফও ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

এদিকে, শিশুটিকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন। মুঠোফোনে তিনি জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তার ছেলেকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন। ইমরানের শ্বশুরের কোনো ছেলেসন্তান না থাকায় সবার সাথে আলোচনার পর এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে শিশুটিকে গ্রহণ করেন এবং শনিবার বিকেলে তাকে শ্বশুরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে দেড় বছরের একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে এভাবে হস্তান্তর করার আইনগত বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। শিশুটির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira