আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আচরণবিধিমালা জারি করেছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক গেজেট প্রকাশ করা হলেও, সবগুলোর মূল বিষয়বস্তু প্রায় অভিন্ন। যেহেতু এবারের স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তাই নতুন করে এই আচরণবিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলো।
নতুন আচরণবিধিতে প্রচারণার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রার্থী চাইলে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার পরিমাপ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত থাকবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া জনসভা বা মিছিল করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক সঙ্গে নিতে পারবেন।
ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও এক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। অনলাইন প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য প্রচার বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে তাদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) জন্য মোবাইল নম্বর নেওয়া যাবে না।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রশাসকরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিও প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জেল বা জরিমানার পাশাপাশি গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।
Leave a Reply