কুয়েতে অবস্থানরত ভিজিট ভিসাধারী এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ছুটির অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আর কোনো স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি কার্যকর হবে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে এই প্রশাসনিক সুবিধা চালু করেছিল। তখন অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ত্যাগ করতে বা ফিরতে পারেননি, সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সরকার পুনরায় আগের আবাসন আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের মতো বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভিসায় উল্লেখিত মেয়াদের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশেষ কোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে ফেরার সুযোগ আর থাকছে না। তাই প্রবাসীদের তাদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা আগেভাগেই নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের জন্য ‘সাহেল’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে সরকারি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পুরোনো কাগজপত্র, নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্য বা আগের কোনো বার্তার ওপর নির্ভর না করে অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করা জরুরি। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফিরে না এলে প্রবাসীর আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইন অনুযায়ী জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার কার্যকর হচ্ছে—এমন কোনো ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরিমানার অঙ্ক নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সরকারি ঘোষণা নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে। মূলত ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আইনগত ব্যবস্থা বা জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
Leave a Reply