জর্ডানের রাজধানী আম্মানের রাস্তায় ভিক্ষা করার সময় এক নারীকে আটক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আটকের পর তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার তথ্যমতে, ওই নারী পেশাদার ভিক্ষুক হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে অর্থ সংগ্রহ করতেন, তা নিয়মিত বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে জমিয়ে রাখতেন বলে সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে ওই নারীর জাতীয়তা বা কতদিন ধরে তিনি এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি অর্থ সহায়তা না দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, অনেক ভিক্ষুক অসুস্থতা বা চরম দারিদ্র্যের মিথ্যা অভিনয় করে মানুষের সহানুভূতি ও অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাই অসহায়দের সাহায্য করতে চাইলে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করছে। জনমনে সচেতনতা বাড়াতে সন্দেহজনক কোনো ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের আইন অনুযায়ী ভিক্ষাবৃত্তি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারার অধীনে জনসমক্ষে ভিক্ষা চাওয়া বা অর্থ সংগ্রহ করা আইনত নিষিদ্ধ।
২০২২ সালে এই আইনটি আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতার ভান করা, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা, প্রতারণামূলক প্রদর্শনী বা মিথ্যা দাবির মাধ্যমে দান সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কিছু ভিক্ষুক অসুস্থ বা চরম আর্থিক সংকটে থাকার মিথ্যা দাবি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
Leave a Reply