এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে উচ্চমাধ্যমিক কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। শনিবার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তিনি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন এবং করণীয় বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিতে চাই না; আমাদের অক্ষমতাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে, সেখানকার শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের উচিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা। তিনি পরামর্শ দেন, শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই নিরুৎসাহিত করা যাবে না, বরং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত সময়ের বাইরে, এমনকি শনিবারেও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছে, সেই বিষয়গুলোতে শিক্ষকদের বাড়তি সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা দরকার ছিল, হয়তো আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারিনি। আমি মন্ত্রীকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এই হার কমে যাওয়াকে ‘বিপর্যয়’ মানতে নারাজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। তার মতে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে মূল্যায়ন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, এটি তারই সাময়িক প্রভাব। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এইচএসসির এবারের ফলকে আমি বিপর্যয় বলব না, বরং এটি একটি স্বাভাবিক ফলাফল। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই আরও যত্নশীল হতে হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স, প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স এবং অনার্স পর্যায়েও কঠোর মূল্যায়ন ও শিক্ষকদের জবাবদিহির কারণে পাসের হারে পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার মান বাড়াতে এই শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে এবং অনার্স পরীক্ষায় পাসের হারও ৬০ শতাংশের। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণেই ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের এক বছর নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানান ড. আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থায় এমন সুযোগ রয়েছে, যা আগে বাংলাদেশে ছিল না। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই উদ্যোগকে তিনি প্রশংসার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন। এ বছর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পদ্ধতি চালু করেছেন, এতে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবে।
বিশেষ পরীক্ষা এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে বিনা পারিশ্রমিকে হলেও অতিরিক্ত পাঠদান করে তাদের সহযোগিতা করুন। আগামী এক-দুই মাস আন্তরিকভাবে কাজ করলে অনেক শিক্ষার্থী নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে।
পরিশেষে ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার সাময়িক প্রভাব কাটিয়ে ভবিষ্যতে এসএসসি, এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষার সব স্তরেই শিক্ষার মান ও পাসের হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply