1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 4:47 am

আমেরিকান ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, October 24, 2026
  • 38 দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে এবার শুধু পাল্টা–আঘাত হেনেই থেমে থাকবে না ইরান, প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে এমনই তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। প্রায় আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎও এখন চরম অনিশ্চিত। যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উভয় পক্ষই নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার মধ্যে জরুরি দায়িত্বে নেই, এমন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব থেকে সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর জেরে সৌদি আরবেও হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। আগে হামলার জবাবে পাল্টাহামলার নীতি অনুসরণ করেও শত্রুপক্ষের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি ইরান। এ বিশ্লেষকের মতে, ইরানের দীর্ঘ মেয়াদে লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতের মার্কিন প্রশাসনগুলো ইরানে হামলার সাহস করার আগে দুবার ভাবে। রুবিও গত বুধবার বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেয়, এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস আরও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব মিশনের জন্য এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি শিগগিরই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পশ্চিমা হামলা মোকাবিলায় নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করেছে তেহরান। এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই হামলার পাল্টাপাল্টি হুমকি দিচ্ছে। ইরান এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে উল্লেখ করে খুরি বলেন, ইরানিরা আসলে ঔপনিবেশিক যুগের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে। ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

আইআরজিসির নতুন সামরিক নীতি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা

বুধবার আইআরজিসি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। নতুন কৌশলকে তারা আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক নীতি হিসেবে অভিহিত করেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘আগে আমাদের প্রতিরক্ষানীতি ছিল আত্মরক্ষামূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের ওপর হামলা না চালালে আমরা আক্রমণ করব না। কিন্তু সেই নীতিতে পরিবর্তন আসছে। এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাবও দেব, আবার আক্রমণও চালাব।’ তাঁর ভাষায়, শত্রুর জন্য এটি নতুন কিছু।

হোসেইন মোহেবি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অন্তত দেড় গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে মোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি প্রকাশ করেননি। আইআরজিসির এই মুখপাত্র দাবি করেন, ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মান ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এগুলোর হামলা চালানোর সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।

একই সঙ্গে মোহেবি জানান, ইরানি সামরিক বাহিনী ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার জনক’ নামের অত্যন্ত শক্তিশালী নতুন একটি সামরিক অস্ত্র জনসম্মুখে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ তৈরি করবে।

হরমুজ প্রণালিতে তৎপরতা ও তেলের বাজারে অস্থিরতা

ইরানের এই নীতিনির্ধারণী ঘোষণার পাশাপাশি সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের কৌশলগত জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে সফল অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসির অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের কাজে সরাসরি যুক্ত ছিল।

এর পাশাপাশি আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।

যদিও গত মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে এসেছিল, কারণ রপ্তানিকারকেরা অলটারনেটিভ পাইপলাইন ব্যবহার করছিলেন; কিন্তু সম্প্রতি এই নৌপথে ঘনঘন হামলা নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা এবং হরমুজে সামরিক পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতামত ও রাজনৈতিক সমীকরণ

সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আক্রমণাত্মক সামরিক নীতির মাধ্যমে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের যুদ্ধ থেকে গভীর শিক্ষা নিচ্ছে তেহরান। মোর্তাজাভি মন্তব্য করেন, তেহরান এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি সামরিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চায়। মোর্তাজাভি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

নেগার মোর্তাজাভির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, প্রচলিত সামরিক শক্তির বিচারে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয়। তাই দেশটি সচেতনভাবেই অসমতাভিত্তিক কৌশল বেছে নিয়েছে। এই কৌশলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ভূভৌগোলিক প্রভাবকে পূর্ণ মাত্রায় কাজে লাগানো হতে পারে।

মোর্তাজাভি আরও বলেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটনের ওপর একযোগে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। এই চাপের সরাসরি প্রভাব আসন্ন ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পড়তে পারে। মার্কিন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে তেহরান ওয়াশিংটনকে একটি শিক্ষা দিতে চায় যে, ইরানে আক্রমণ চালানোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অত্যন্ত চড়া হতে পারে। এমনকি এর জন্য (ট্রাম্পের দলকে) নির্বাচনেও হারতে হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না। বিনিময়ে দেশটি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিণতি

অন্যান্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি যেন কেবল ইরানের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করাও তেহরানের নতুন নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামি খুরি আল-জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের অনুধাবন করতে হবে যে, সংঘাত ছড়ালে তার খেসারত সবাইকে যৌথভাবে দিতে হবে।

রামি খুরি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আসন্ন একটি বড় ধরনের সংঘাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভবত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত ভয়াবহ হামলা হবে, যার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম কঠিন করে তোলা।’ তবে ইরান এককভাবে বড় ধরনের নতুন সামরিক আক্রমণ কতটা দীর্ঘমেয়াদে সামাল দিতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নতুন করে বিরোধের কেন্দ্রে এসেছে।

আইআরএনএর বরাতে আল-জাজিরা আরও জানায়, ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অ্যাডভেঞ্চারের কঠোর মূল্য দিতে হবে। যদিও ইরান এখনো কূটনীতিকেই প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে, তবে মার্কিন সাউথ ক্যারোলাইনায় এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, উভয় পক্ষের সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই এবং মধ্যপ্রাচ্য আবার একটি অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কোনো না কোনোভাবে খুব শিগগির কিছু একটা ঘটবে। ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira