1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 11:02 am

কামানের গোলা নাকি মদের বোতল? চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিতর্ক

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, November 6, 2026
  • 14 দেখা হয়েছে

পাপুয়া নিউগিনিতে একটি কনটেইনার থেকে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক একটি ধাতব বস্তুকে কেন্দ্র করে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বস্তুটির আকৃতি কামানের গোলার মতো হলেও এটি আসলে ‘নিরীহ একটি মদের বোতল’। তবে বেইজিংয়ের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কোনো পানীয়ের পাত্র নয়, বরং এটি একটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী কামানের গোলা।

গত সপ্তাহে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরেসবির একটি নির্মাণাধীন প্রকল্প থেকে ৩২ কেজি ওজনের বিশালাকার এই বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ চার চীনা নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করেছে। এরপর পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করে, গোলার মতো দেখতে এই মদের বোতলটিতে কোনো ঝুঁকি বা বিপদ নেই। তারা আরও দাবি করে, চীন কঠোরভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলে, তাই দেশ থেকে অবৈধভাবে সামরিক গ্রেডের গোলাবারুদ বাইরে যাওয়া অসম্ভব।

তবে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বস্তুটি আসলে চীনের তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ ৫৯’ মডেলের একটি কামানের গোলা, যাতে রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনির পুলিশকে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া এক্স-রে যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা পাপুয়া নিউগিনির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি অবিস্ফোরিত গোলা। জননিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাস জানায়, স্থানীয় জনগণের প্রকৃত সত্য জানার এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের অধিকার রয়েছে। সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেশটির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওয়াশিংটন বলেছে, পাপুয়া নিউগিনির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সবসময় পাশে আছে। মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, এটি জননিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত মারাত্মক বিষয়। এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বেইজিং জানিয়েছিল, তারা দেশটির সঙ্গে একে অপরের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পাশে থাকতে প্রস্তুত।

এদিকে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা স্থানীয় পুলিশের তদন্তে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের এই ‘মদের বোতল’ দাবির বিষয়টি ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল বিশ্বের কোথায় পাওয়া যায়? নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছে, এটি সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক মদের বোতল এবং চীনা সরকারের মিথ্যা বলার দক্ষতা কাঁচা হাতের কাজ হয়েছে। চীনের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামেও দেশীয় মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পর এখন বিদেশিদেরও বোকা বানানোর প্রচেষ্টার সমালোচনা উঠেছে। ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল দুনিয়াতে আর কোথায় আছে?’। আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা এটিই সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক মদের বোতল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই নতুন বিতর্কের জন্ম হলো। যদিও গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেছিলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক কোনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ নয়, বরং এটি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেই চীন ও পাপুয়া নিউগিনি তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে। এর কিছু সময় আগেই পাপুয়া নিউগিনি তাইওয়ানে অবস্থিত তাদের অর্থনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করে দেয়, যা বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। মূলত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করা চীন বরাবরই সামরিক শক্তির মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে, যার ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira