মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা গত শুক্রবার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এই প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তারা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারি প্রতিনিধিদলের এ তেহরান সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে কোনো সরাসরি শর্তের বদলে আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চিঠিতে এখনই কোনো সরাসরি শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছিল। এছাড়া গত মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাতার ছাড়াও চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরান সফর করে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ বজায় রাখায় দেশটির তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকটে পড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, আটকে থাকা জাতীয় সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
Leave a Reply