জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মারধর, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে করা এই মামলাটি আমলে নিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বিচারক মাহবুব আলম মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
মামলার বাদী মো. গিয়াস উদ্দিন একজন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি সহায়তা ও চেক পাওয়ার জন্য তিনি ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করলে তাকে বারবার ঘোরাঘুরি করানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে অবৈধ সুবিধা হিসেবে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। গত বছরের ৩ মে চেক নিতে গেলে তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এতে তার ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফাউন্ডেশনের সাইদুর রহমান শহীদ (২৪) ও জ্যেষ্ঠ ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেনকে (৩০)। এছাড়া মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশিদ, মো. কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াসিন মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইয়াসিন মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার পর গিয়াস উদ্দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পরপরই তিনি রমনা থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মামলার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২০, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮৫, ৫০৬ (২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের ৩ লাখ টাকার অর্ধেক চাঁদা হিসেবে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে পরিকল্পিতভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে তাঁর সরকারি বরাদ্দের ৩ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইয়াসিন মিয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা ও চেক পাওয়ার জন্য তিনি বারবার ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করলেও তাঁকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হচ্ছিল।
Leave a Reply