1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
September 20, 2026, 1:38 am

জামালপুরের মাদারগঞ্জে শিক্ষক ও জনবল সংকটে ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, September 5, 2026
  • 12 দেখা হয়েছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই বর্তমানে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ২৭টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব এবং ১০১টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।

শিক্ষক সংকটের এই প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সহকারী শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও জটিলতা দেখা দেয়।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অবস্থিত ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কোয়ালিকান্দি, ঝাড়কাটা, চরনগর, পূর্ব চরপাকেরদহ, চাঁদপুর সন্ধ্যাজান, বালিজুড়ী আরএ, চর নাংলা, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, চরপাড়া ইসলামিয়া ও জোড়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২৮টি প্রতিষ্ঠানেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অভিভাবক তোফায়েল আহম্মেদ, এনামুল হক ও নাজিরুল ইসলামের মতে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষক সময়মতো উপস্থিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, ফলে অনেকে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।

চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং সহকারী শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অবস্থাও নাজুক। সেখানে অনুমোদিত ১২টি পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়কের পদ খালি পড়ে আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। অবসর, বদলি, মৃত্যু এবং মামলা-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও দাপ্তরিক কাজ তদারকিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়মিত জানানো হচ্ছে। জনবল সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান উন্নয়নে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাও ঠিকভাবে বজায় থাকছে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira