1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 8:12 am

জামালপুরের মেলান্দহে মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ বিতরণ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অসহায় মানুষ

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, September 9, 2026
  • 46 দেখা হয়েছে

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা সরকারি ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা খাদ্যপণ্য পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণ পাওয়া ভুক্তভোগীদের দাবি, প্যাকেটের গায়ে ‘অর্থবছর ২০২৪-২০২৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে থাকা অনেক পণ্যই দীর্ঘদিনের পুরোনো। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তেমনি সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ও ৬ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে ৯০ জন অসহায় ব্যক্তিকে এসব ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চালের পাশাপাশি এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া ছিল। প্যাকেটের গায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নাম ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উল্লেখ রয়েছে।

ত্রাণ পাওয়ার পর প্যাকেটগুলো খুলে ভুক্তভোগীরা দেখতে পান যে, অনেক পণ্যের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগম ত্রাণ গ্রহণ করেন। তার প্যাকেটে থাকা লবণের মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল, অর্থাৎ বিতরণের দুই দিন আগেই। একই প্যাকেটে থাকা তেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৬ সেপ্টেম্বর। একই দিনে ত্রাণ পাওয়া লিটন ও বারেকের প্যাকেটেও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর মলিকাডাঙ্গা এলাকার রত্না বেগম ও জোসনা বেগম এবং হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজ যে ত্রাণ পেয়েছেন, সেগুলোর খাদ্যপণ্যের অবস্থাও একই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাগের ভেতরে থাকা মসলা, চিনি ও লবণ পুরোনো হয়ে জমাট বেঁধে আছে এবং কোনো কোনো প্যাকেট ছেঁড়াও রয়েছে। হাসনা বেগম জানান, তিনি মেয়াদ দেখার বিষয়টি জানতেন না, কিন্তু এখন এসব পণ্য খাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। রত্না বেগম ও জোসনা বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করে জানান, মেয়াদ শেষ হওয়া পণ্যগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী।

মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এসব পণ্য কোথায় এবং কত দিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, জুলাই মাসের প্রথম দিকে ত্রাণের বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়ার পর ত্রাণসামগ্রী আসে এবং পরে তালিকা অনুযায়ী তা বিতরণ করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পাওয়ার পর তা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। তবে উপজেলা পর্যায়ে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সরকারি ত্রাণসামগ্রী অসহায় মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে দেওয়া হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিতরণের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব পণ্য কখন কেনা হয়েছে, কোথায় কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং বিতরণের আগে পণ্যের মেয়াদ যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই বাড়িতে এনে রেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছুদিনের মধ্যে অন্য পণ্যের মেয়াদও শেষ হয়ে গেলে সেগুলো খেয়ে শেষ করা যাবে না।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিনি-ডালের প্যাকেটও হালকা ছেঁড়া ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এত আগের জিনিস এত দিন পরে দিলে মেয়াদ তো শেষই হবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা আমি জানি না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira