বিপিএল স্থগিত হওয়ার পর ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে বিসিবির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, নতুন কোনো টুর্নামেন্টের ঘোষণা না এলেও, ক্রিকেটাররা একটি সম্মিলিত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাময়িক আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফলের পথেই হাঁটছেন তারা।
চলতি মৌসুমে নানা অনিশ্চয়তার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হলেও, বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘরোয়া আসর বিপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত এই টুর্নামেন্টটি এক বছর বন্ধ রেখে পুনর্গঠন করতে চায় বোর্ড। তবে বিপিএল না হওয়ায় বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ক্রিকেটাররা।
কোয়াব সভাপতি মিঠুন জানান, তাদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি হলো বিপিএলের বদলে সাময়িক কোনো আর্থিক সহায়তা নেওয়া, অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা। মিঠুন বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছি, যার মাধ্যমে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার উপকৃত হবেন।’
ভেতরের খবর অনুযায়ী, জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তিনটি সংস্করণে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ক্রিকেটারদের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, পরপর তিন আসরের জন্য ম্যাচ ফি বাবদ অন্তত ৩০ লাখ টাকা নিশ্চিত করা হোক। বিসিবি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে এনসিএল ও বিসিএলের ওপর ভর করেই মৌসুম পার করবেন ক্রিকেটাররা।
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আর্থিক ত্যাগের মুখে পড়বেন জাতীয় দলের তারকা ও বিপিএলের ড্রাফটের বাইরের চড়া দামের ক্রিকেটাররা। বিপিএল হলে যারা এক আসরেই কোটি টাকার কাছাকাছি আয় করতেন, ঘরোয়া লিগের ম্যাচ ফি দিয়ে সেই ক্ষতি পুরোপুরি পোষানো সম্ভব নয়। তবুও তরুণ ও প্রথম শ্রেণির সব ক্রিকেটারের স্বার্থে এই বড় ক্ষতি মেনে নিচ্ছেন তারা।
মিঠুন নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি নিয়ে কেবল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর সঙ্গেই নয়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও শীর্ষ তারকাদের সঙ্গেও ফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেই বিসিবিকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিপিএল না হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও স্বীকার করেছেন এবং বিকল্প টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই সভার মধ্যে নতুন আসলে কিছু কি হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘ফোন না ধরে গায়েব হয়ে যাওয়ার চেয়ে ভালো মডেলে বিপিএল করা উচিত’।
Leave a Reply