নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি মাটি ও পাথরের বিশাল স্তর নদীতে ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ১২ জন বৃটিশ এবং তিনজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, আরও আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা পাহাড়ধসের ফলে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে ধারণ করা সময়ের প্রায় সাত মিনিট আগে ওই এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ কিয়াংগং ঝাংয়ের মতে, লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধস এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নদীর উজানে এখনো বড় ধরনের বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় আরও বড় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যায় নেপালের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির মোট ৩.২ গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুয়া জেলার শ্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে হেলিকপ্টার নামতে না পারায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিব্বতের গিরং এলাকায় ভূমিধসের ফলে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিধসটি নেপালের অংশে শুরু হয়ে সীমান্তের গিরং বন্দরে আঘাত হানে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গিরং সীমান্তে অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দেড় মিটার গভীর কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলের চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ভারত ও নেপালের সংশ্লিষ্ট দলগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। এদিকে, হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীর পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী নেপালের ত্রিশূলী নদীর সাথে মিশে ভারতে গান্ডাক নামে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে গত বছরও একই নদীতে বন্যায় ৯ জনের মৃত্যু ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় মিডিয়া জানিয়েছে নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে কমপক্ষে ১০৫ জন ভারতীয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এখনও উদ্ধার অভিযান চলমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন-নেপাল সীমান্তের চীনা অংশে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল পাথর, কাদা ও পানির স্রোত ধেয়ে আসার আগে মানুষজন দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ওই স্রোত ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ওপরে উঠে গেছে।
Leave a Reply