স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন মৌসুমের পর্দা উঠছে আজ। রাত সাড়ে ১১টায় আলাভেস ও হেতাফের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে লা লিগার লড়াই। তবে লিগের সবচেয়ে বড় দুই দল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাকে মাঠে দেখার জন্য সমর্থকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। মৌসুম শুরুর প্রথম সাত দিনেও এই দুই জায়ান্ট ক্লাবের কোনো ম্যাচ নেই। এর পেছনে মূল কারণ গত মাসে শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ। গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জেতার পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা ও বিশ্রামের বিষয়টি সামনে আসে।
লা লিগার খেলোয়াড়দের সংগঠন এএফই আগেই সতর্ক করেছিল যে, ফাইনাল শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে খেলোয়াড়দের মাঠে নামানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে লা লিগার ক্লাবগুলো সর্বসম্মতভাবে উদ্বোধনী রাউন্ডের কিছু ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) নিয়ম করে দেয় যে, যেসব ক্লাবের একাধিক খেলোয়াড় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে অংশ নিয়েছেন, তারা চাইলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ২৫, ২৬ বা ২৭ আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে পারবেন। লা লিগা সভাপতি হাভিয়ে তেবাসও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের পর অন্তত তিন সপ্তাহ বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে।
বার্সেলোনার স্কোয়াডে থাকা আটজন খেলোয়াড় স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে জোয়ান গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস ও লামিনে ইয়ামাল উল্লেখযোগ্য। যদিও তোরেস বর্তমানে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের মার্ক কুকুরেয়া ফাইনাল খেলেছেন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও জুড বেলিংহাম সেমিফাইনাল পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। বিশ্বকাপের ধকল কাটিয়ে অনেক খেলোয়াড়ই এখনো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করতে পারেননি, আবার কেউ কেউ অনুশীলনে ফিরলেও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেননি।
এই পরিস্থিতির কারণে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে জোসে মরিনিওর দ্বিতীয় অভিষেক দেখতে সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত, যেদিন তারা এসপানিওলের মুখোমুখি হবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে পরদিন, ২৩ আগস্ট এলচের বিপক্ষে। একই নিয়ম আতলেতিকো মাদ্রিদের জন্য প্রযোজ্য হলেও, স্টেডিয়ামে কনসার্টের কারণে তারা নির্ধারিত সূচির আগেই মালাগার বিপক্ষে আগামী বুধবার মাঠে নামছে। আতলেতিকোর স্কোয়াডে স্পেনের চারজন বিশ্বকাপজয়ী ও আর্জেন্টিনার চারজন রানার্সআপ খেলোয়াড় রয়েছেন, তবুও মাঠের সমস্যার কারণে তারা সূচি পরিবর্তন করতে পারেনি।
Leave a Reply