মালয়েশিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে বিবাহ সূত্রে বিদেশিদের স্থায়ী বাসিন্দা তথা পিআর এবং প্রবেশের অনুমতির জন্য ঝুলে থাকা ১১ হাজার ৭২৫টি আবেদন আগামী জুনের মধ্যে পুরোপুরি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এই আবেদনগুলো দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এই বিশেষ কমিটি গঠনের লক্ষ্য হলো জনসংযোগের আবেদনগুলো পরিচালনা করা যাদের সিদ্ধান্তগুলো ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত ছিল এবং গত বছরের শেষের পর থেকে, এ পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে বিলম্বিত ১৭ হাজার ৪১১টি বিদেশি প্রবেশের অনুমতিপত্রের আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৬টি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। বাকি ১১ হাজার ৭২৫টি আবেদন চলতি তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সমাধান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া সাবান সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ বা পিডিআরএমের মাধ্যমে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আটকে থাকা এসব মামলার জট দ্রুত ছুটিয়ে দিতে গত বছরের শেষ দিকে ১২ জন কর্মীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিদেশিদের প্রবেশ অনুমতির সব আবেদন পাস হয় না; এটি মূলত পিডিআরএম কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে। কোনো নির্দিষ্ট কারণে আবেদন ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মন্ত্রীর কাছে আবেদন করার সুযোগ পান। মূলত পরিবার ও সন্তানের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এই বিশেষ পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
সেবা খাতের মান উন্নত করার এই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, জুনের মধ্যে প্রবেশের অনুমতি সংক্রান্ত কোনো পুরোনো মামলা আর ঝুলে থাকবে না। এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে যেসব নতুন মামলার আবেদন জমা পড়বে, তা মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতিপ্রার্থী নারী স্ত্রীদের ক্ষেত্রে বসবাসের মেয়াদ কমিয়ে মাত্র তিন বছর করা হয়েছে। তবে পুরুষ স্বামীদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ পাঁচ বছর বহাল রাখা হয়েছে।
Leave a Reply