1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 10:43 am

ড. ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, October 14, 2026
  • 22 দেখা হয়েছে

নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হেনস্তার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। একটি টেলিভিশন টকশোতে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের ঘটনা কেবল শুরু এবং এটি সারা পৃথিবীতেই ঘটতে থাকবে যতক্ষণ না দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। উনি অন্যায়ভাবে, অসাংবিধানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন।

ড. সিদ্দিকুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ড. ইউনূসের ওপর এই ধরনের আচরণের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বা সম্মানহানির উদ্দেশ্য ছিল না, বরং এটি তার গত দুই বছরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, ড. ইউনূস অসাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ৩২ নম্বরের ধানমন্ডির বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া, জুলাই-আগস্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্যের মৃত্যু এবং এক লাখেরও বেশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে কারাবন্দি করার মতো ঘটনাগুলো জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ছাত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল, সেই ছাত্র সংগঠনকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টিতেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা। তিনি বলেন, যে দলটি দেশকে স্বাধীন করেছে, সেই দলের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং দলের নেতৃবৃন্দকে জেলে আটকে রাখায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি আরও যোগ করেন, ড. ইউনূসের শাসনামলে অনেক নেতার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, ব্যবসা বাণিজ্য নষ্ট হয়েছে এবং অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিমানবন্দরের এই ঘটনাকে দেখছেন তিনি। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘ওনার (ড. ইউনূস) আজ যে পরিণতি ঘটেছে—এটা কিন্তু উনি যে ড. ইউনূস বা নোবেল লরিয়েট সে জন্য হয়নি।’।

টকশোতে তাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে না? জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমা চাওয়ার বিষয় থাকলে সেটি ড. ইউনূসকেই করতে হবে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত যাদের প্রাণহানি হয়েছে সেটির জন্য একটি কমিশন হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, তোফায়েল আহমেদের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে সংসদ ভবনে জানাজা করতে না দেওয়ার বিষয়টিও দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি আইনের দেশ এবং এখানে তারা আইনের সীমানার মধ্যেই থাকতে চান। সেখানে শারীরিক কোনো আক্রমণ করা হয়নি, বরং এটি ছিল এক ধরণের মানসিক বহিঃপ্রকাশ। তিনি সতর্ক করেন যে, দেশে শান্তি ফেরাতে হলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্ত করে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা কারো জানা নেই।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, সে সময় পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তার মূল বক্তব্য ছিল, দেশের রাজনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এবং আওয়ামী লীগকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখলে এ ধরণের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটা অনিবার্য। ড. সিদ্দিকুর রহমান শেষ পর্যন্ত পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এটি কেবল একটি শুরু, যার দায়ভার ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের ওপরই বর্তায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira