1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 4:51 am

বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইউরোপ, রাজপথে কেন ফুঁসে উঠেছে জেন-জিরা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, October 25, 2026
  • 43 দেখা হয়েছে

ইউরোপজুড়ে অসন্তোষের দাবানল

ফ্রান্স থেকে ইতালি, স্পেন থেকে সার্বিয়া, পর্তুগাল থেকে গ্রিস—বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইউরোপের বড় একটি অংশ। উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। কোথাও অতিরিক্ত খরচে নিম্নমানের শিক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণেরা, আবার কোথাও আবাসনসংকট ও বাড়তি আবাসন ব্যয় জেন-জিদের রাজপথে নামিয়ে এনেছে। জেন-জিদের এই হতাশা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তার বড় অংশই এখন জেন-জি বা তরুণেরা।

দেশভেদে নানা কারণ ও অসন্তোষের সূচনা

স্পেনে বিক্ষোভের শুরু একটি ছোট্ট ঘটনা দিয়ে। সেখানে ৮৭ বছরের মারিকারমেন অ্যাবাসকালকে তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলে তা দেশটিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় দেশটিতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভ উসকে দেয়। অন্যদিকে, ফ্রান্সে বিক্ষোভের শুরুটা শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। শিক্ষকসংকট, বিদ্যালয়ের চরম দুরবস্থা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন তারা। ফ্রান্সের শিক্ষাকেন্দ্রীক এই বিক্ষোভ থেকে পরবর্তী সময়ে সহিংসতা, লুটপাট ও গণগ্রেপ্তারে পুরো ফ্রান্স উত্তাল হয়ে ওঠে। ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, শহরে শহরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার প্রায় ১০০০। কেউবা জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ নিয়ে হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। জায়গাটি রোম থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বা ৭৫ মাইল দূরে ছিল। চাই, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আর সামাজিক ন্যায়বিচার। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ওপর সীমা নির্ধারণ ও ভাড়াটেকে উচ্ছেদ আরও সহজ করে পাস হওয়া নতুন আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আলবেনিয়ায় কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। দেশটিতে বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের একটি পরিকল্পনা থেকে এই প্রতিবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও জড়িত। কারণ ভিন্ন হলেও প্রতিটি বিক্ষোভের মূলে একটি জিনিস—অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট ক্ষোভ। নানা বিষয় নিয়ে শুরুতে বিক্ষোভের ক্ষোভ জমছিল; এরপর সেটা রূপ নিচ্ছে একটি প্রজন্মের সম্মিলিত প্রতিবাদে। পরে চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার।

এক সূত্রে গাঁথা বিভিন্ন দেশের রাজপথ

এক দেশের জেন-জি বিক্ষোভ অন্য দেশের তরুণদের রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেছে। ইতালি ও গ্রিসের তরুণ বিক্ষোভকারীরা রাজপথের স্লোগানে ফরাসি বিক্ষোভকারীদের কথা বলেছেন এবং তাদের প্রতি জোর সংহতি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের উত্তাল এ সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা আর পরামর্শ পরস্পর ভাগ করে নিচ্ছে। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের প্রধান সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো সিএনএনকে এ কথা জানান। বিক্ষোভকারীরা এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি—দুর্নীতি দমন। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী এদি রামের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

অ্যালিস দ্য ব্রিতো বলেন, ‘আমি তফাতের চেয়ে বরং মিল বেশি দেখছি। আমরা সবাই শিক্ষা খাতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এবং সামগ্রিকভাবে তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে করতে সবাই এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একইভাবে সমর্থন জানান শিক্ষকদের আন্দোলনে।

একই সুর ধ্বনিত হয়েছে ইতালির ছাত্রনেতা সাবরিনা ব্রিজোলার কণ্ঠেও। গত সপ্তাহান্তে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন বিদ্যালয় চাই, যেগুলোর ছাদ ধসে আমাদের মাথায় পড়বে না। আসুন, আমরা আমাদের দাবির পক্ষে সোচ্চার হই।’ ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইউরোপিয়ান করেসপনডেন্ট’-এর দৈনিক নিউজলেটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিন্টেলমান বলেন, ‘বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এত দিনের জমে থাকা হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে।’ আমরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ চাই।

গণতন্ত্রের ভেঙে পড়া প্রতিশ্রুতি ও অর্থনৈতিক সংকট

ইউরোপীয় জেন-জিদের ক্ষোভের বড় দুটি কারণ—শিক্ষা ও আবাসন খাতের সংকট। জুলিয়াস ফিন্টেলমান সিএনএনকে বলেন, ‘মৌলিকভাবে আমরা দেখছি, উদার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়ছে। সেই প্রতিশ্রুতি ছিল—পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে ভালো জীবনযাপন করবে।’ ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক মন্দা ও ঋণের বোঝাও সংকট গভীর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেসব দেশে বিক্ষোভের উত্তাপ বেশি, সেগুলোর মধ্যে আছে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগাল। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল; দেশটিতে সরকারি বন্ডের মুনাফার হার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে, যা সরকারি তহবিল ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় তরুণদের মনে আশঙ্কা, তাঁদের মা–বাবার প্রজন্ম যেসব সুযোগ–সুবিধা পেয়েছে, তাঁরা আর সেসব পাবেন না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে, বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুর দিকের চাকরিগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।

ফ্রান্সে এটি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়। গত ৯ বছর ধরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এলেই সেখানে বিক্ষোভ হয়, কিন্তু এবার এর ব্যাপকতা অনেক বেশি। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য দূর করা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং ক্লাসরুমের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিশ্চিতে সোচ্চার রয়েছে। কেউ কেউ শিক্ষা খাতে বাড়তি সরকারি বরাদ্দের দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাজপথ দখল করে রেখেছে। ইতালির রাজধানী রোমে ৭ অক্টোবর একটি হাইস্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়া চাকরির বাজার। আন্দোলন মোকাবিলায় ব্যর্থ মাখোঁ, তাহলে আগামী নির্বাচনে ফ্রান্সে কি কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় আসছে।

বিশ্বরাজনীতি ও আবাসন সংকট

ইউরোপের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই সংকট এখন বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে। গ্রিসের এথেন্সসহ বিভিন্ন শহরে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেছে। ইতালির রোমেও হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে নিজস্ব বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইতালি সরকার দাবি করছে, ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভের সঙ্গে ইতালির সংঘাতের মিল নেই। এর পেছনে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করতে চাইলে আন্দোলনকারীরা তা নাকচ করে দেয়। গত মঙ্গলবার ভোরে সেখান থেকে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না—এমন অনুভূতি বিক্ষোভগুলোয় প্রতিফলিত হচ্ছে।’। সেখান থেকে নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতেন।

আবাসনসংকট একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রোমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ভাই-বোন এলিসা পাস্তোরে ও তাঁর ভাই কীভাবে ছোট একটি কক্ষে থেকে পড়াশোনা করছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য হিমশিম খাচ্ছেন, তা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরা জানান, সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থার সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। পর্তুগালের লিসবনে ‘কাসাস পারা মোরার’ (বসবাসের জন্য বাড়ি চাই) স্লোগান নিয়ে হাজারো মানুষ তাবু খাটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এলিসা বলেন, ওই কক্ষের ভাড়া দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুর দিকে তাঁর ভাই যখন রোমে আসেনি, ওই সময় খরচ বাঁচাতে তিনি রাজধানীর বাইরের একটি এলাকায় বসবাস করতেন। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ব্যস্ততম রোসিও চত্বরে চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন সন্ধ্যায় জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ।

বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপও এই আন্দোলনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কমে আসায় ইউরোপে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে। ফলে তরুণদের পাশাপাশি ইতালির ট্রাকচালকেরাও অতিরিক্ত খরচের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। সার্বিয়া ও আলবেনিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে তরুণেরা দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তীব্র হলেও তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, অন্যদিকে সার্বিয়ায় রাজপথের তরুণদের আন্দোলনের মুখে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। তবে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই, আমরা বিপ্লব চাই।’ সার্বিয়ায় নির্বাচনে কি দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্দার ভুচিস তরুণদের বিক্ষোভে হারতে বসেছেন।

সামনে ধর্মঘট ও নতুন আন্দোলনের ডাক

ইউরোপে অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়ার আলামত দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সে ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা ফরাসি রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই একই অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় এবার ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো যথাক্রমে ৫ ও ১১ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এছাড়া ‘জেন-জেড রেগেল্ট’ নামের একটি প্রভাবশালী সংগঠন আগামী ৩১ অক্টোবর জার্মানিজুড়ে মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর একদিনের সার্বিক ধর্মঘট ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইতালি ও যুক্তরাজ্যের প্রধান শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, জেনারেশন জেড বা জেন–জিরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira