1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 4:10 am

দিল্লিতে এসসিও সম্মেলনে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, October 28, 2026
  • 54 দেখা হয়েছে

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) আসন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক পুরোনো কেল্লায় এই ‘সভ্যতাগত সংলাপ’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হবে। এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। ভারতের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দিল্লিতে এই অনুষ্ঠান হবে ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের তৈরি পুরোনা কেল্লায়।

২০২৫ সালের মে মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সীমান্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালিত হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মন্ত্রীর আমন্ত্রণের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০২৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো গোয়ায় এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এসব ক্ষেত্রে বিবেচিত হয় না। ফলে দুই দেশের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল এসব দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক আস্থা স্থাপন করা। সীমান্তবর্তী সামরিক আস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তারে সংগঠনটি সচেষ্ট হয়।

ভারত বরাবরই এসসিও-এর মতো বহুপক্ষীয় সংগঠনকে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করে থাকে। নয়াদিল্লি আশা করছে, পাকিস্তান এই আমন্ত্রণে সাড়া দেবে। গত সেপ্টেম্বরে এসসিও সম্মেলনের জাতীয় কো-অর্ডিনেটর অলোক ডিমরি ইসলামাবাদ সফর করেন। গত দুই বছরের মধ্যে এটিই ছিল ভারত সরকারের কোনো প্রতিনিধির প্রথম আনুষ্ঠানিক পাকিস্তান সফর। মূলত পাকিস্তান আগামী বছর এসসিওর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিধায়, অলোক ডিমরি সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি এখনো সুদূরপরাহত। দুই দেশেই বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিযুক্ত নেই। এছাড়া আন্তসীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে ভারত এখনো তাদের অবস্থানে অটল। গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানের বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্ত্রাসবাদকে বৈদেশিক নীতির অংশ করা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে ভারতের কাশ্মীর নীতি নিয়ে সরব থাকে। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে বৈদেশিক নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে; অর্থ, আশ্রয়, মনোবল ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে চলেছে, তাদের স্পষ্ট করে বলা উচিত, সন্ত্রাসবাদ কখনো কোনো দেশের কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।

এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে ভারত আপসহীন। সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এসসিও কাউন্সিলে যোগ দিতে পাকিস্তান সফর করেছিলেন। যদিও সেই সফরে দুই মন্ত্রীর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি। সেই থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শৈত্য নতুনভাবে জমাট বেঁধেছে।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯৬ সালে চীন ও রাশিয়ার উদ্যোগে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানকে নিয়ে ‘এসসিও ফাইভ’ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে উজবেকিস্তান এতে যুক্ত হয়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের সদস্যপদ লাভ করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এসসিওর মোট সদস্য দেশের সংখ্যা ১০টিতে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম এই ‘সভ্যতাগত সংলাপ’ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মোদির লক্ষ্য হলো, এশিয়া ও ইউরেশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে নির্ভরতা ও বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এশিয়া ও ইউরেশিয়ার দেশগুলো এভাবেই একে অন্যের কাছাকাছি আসতে পারবে। একে অন্যকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

পাকিস্তানের মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি এই সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিলে তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে পাকিস্তান তাদের পক্ষ থেকে ঠিক কাকে পাঠাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী বছর এসসিওর সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য এই সম্মেলনটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira