জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল আটটায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে এই গাড়িবহর রওনা হয়। তবে আলোচিত এই কর্মসূচির উদ্বোধনী আয়োজনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো শীর্ষ নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। সমাবেশ শেষে সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবারের লংমার্চে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন না। ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাবে। ওই ঘটনার ১৫ মাস পর এবার গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি ১১-দলীয় ঐক্য। ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা অবশ্য গোপালগঞ্জে হামলার আশঙ্কা নাকচ করেছেন। হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে এই বহর।
দলটির জ্যেষ্ঠ একাধিক নেতার তথ্যমতে, এবারের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ মূলত ‘প্রতীকী’ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ।
দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারজন নেতাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে দলের কয়েকজন প্রতিনিধি থাকছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না থাকলেও এই প্রতিনিধিরা পরবর্তী সময়ে গাড়িবহরে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে আরিফুল ইসলাম আদীব এরই মধ্যে শরীয়তপুরের নাওডোবায় লংমার্চের পথে বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তারা দলগতভাবেই এই লংমার্চে রয়েছেন এবং প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ লংমার্চে যুক্ত রয়েছেন এবং বাগেরহাট থেকে তিনি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক জানিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়িবহরেই আছেন। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এবারের লংমার্চের রুট হিসেবে গোপালগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে নিরাপত্তা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে গোপালগঞ্জে এনসিপির একটি পদযাত্রা ও সমাবেশে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার পথিমধ্যে কোনো সভা বা কর্মসূচি রাখা হয়নি বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বিষয়ে জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। এ হামলার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়ী করা হয়েছিল।
এনসিপি নিজস্ব স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখার কৌশল হিসেবেই এবারের লংমার্চে সীমিত পরিসরে অংশ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে লংমার্চের এক দিন আগে গত শুক্রবার দলটি ঢাকার শাহবাগে নিজস্ব উদ্যোগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে দেশবাসীকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর নিয়ে লুকোচুরি হচ্ছে কি না, জাতি জানতে চায়: শফিকুর রহমান।
প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে লংমার্চ ১৯টি জেলা অতিক্রম করবে। যাত্রাপথে নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর, স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ হবে।
১১-দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি রোধ ও প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ করার মতো দাবিগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল এই জোট। খুলনার পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
Leave a Reply