সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হেমায়েতপুর এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং গাড়িটি ভস্মীভূত হয়। সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুস সবুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় সড়কে যানবাহন আটকে যাওয়ায় তীব্র দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ দিন সাভারের হেমায়েতপুরে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিকেও মাঠে দেখা গেছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেখানে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর সড়ক থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় সাড়ে আটটার দিকে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা।
সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত উত্তেজিত শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড অংশে উভয় পাশ অবরোধ করে রাখেন। বিজিবি সদস্যরা মূলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এলাকায় সতর্ক পাহারায় রয়েছেন।
এতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাভার ও আশুলিয়ার অন্তত শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য, চারজন সাংবাদিক, দুইজন ক্যামেরাপার্সন এবং শ্রমিকসহ সব মিলিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা মহাসড়ক ও শিল্প এলাকায় টহল দিচ্ছেন।
একইভাবে আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, কুটুরিয়া, জিরাবো ও জিরানিসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ও শিল্প পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নরসিংহপুর এলাকায় পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, দুপুরের পর থেকে ওই এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
Leave a Reply