1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 10:39 am

বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়তে সৌদির সঙ্গে আলোচনায় ইরান

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, November 6, 2026
  • 16 দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন ও স্বতন্ত্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের নিয়মিত আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বিলোপের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গেই ইরানের কোনো বৈরিতা নেই। এছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ায় কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।

এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। ওই সফরের সময় একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চার দেশই রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। আরাঘচির ভাষ্যমতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই এই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বহিরাগত সামরিক শক্তি থাকবে না।

ইরান তার প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে আগ্রহী নয় বলে আশ্বস্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় ইরান পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে। এমন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে তেহরান। এদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতায় নিউয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনার পরেও কোনো সরাসরি বৈঠকে বসার সমঝোতা এখনো তৈরি হয়নি। আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালি বিষয়ক আলোচনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান সমঝোতা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই মূলত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। ইরান আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী হলেও, কোনো সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তাদের সশস্ত্র বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira