মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ভোটের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আইনি লড়াই শুরু করার প্রায় ৪ বছর ৯ মাস পর নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রশিদ আহমদ সোনাম। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের পথ সুগম হলো।
নির্বাচনী মামলা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রশিদ আহমদ সোনাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী খছরুজ্জামান লড়েছিলেন মোরগ প্রতীকে। ভোটগ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খছরুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করলে রশিদ আহমদের এজেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। এজেন্টের আপত্তি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি ফলাফল ঘোষণার পর রশিদ আহমদ প্রথমে নির্বাচন অফিসে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেন এবং পরে মৌলভীবাজারের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
ট্রাইব্যুনাল ভোট পুনরায় গণনা করে রশিদ আহমদকে বিজয়ী ঘোষণা করলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খসরুজ্জামান উচ্চতর নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে যান। তবে সেই আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল থাকে। এই রায়ের ভিত্তিতে গত বছরের ২২ জুন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রশিদ আহমদ সোনামকে বিজয়ী ঘোষণা করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। শপথ গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় রশিদ আহমদ বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন, কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। আদালতের রায়ে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং সত্যের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Leave a Reply