সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নজরদারিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে যাত্রা শুরু করল ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’। মঙ্গলবার এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনী আয়োজনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীনসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের আগে মন্ত্রীকে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। পরে তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং বিজিবি সদস্যদের পরিচালনায় একটি অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকায় জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানে নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিযুক্ত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো হবে। এর ফলে রাতের অন্ধকারেও চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করা এবং তা প্রতিহত করা সহজতর হবে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধারকাজ ও দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও ড্রোনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে, যার সফল প্রয়োগ সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখা গেছে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের ড্রোন ওয়ারফেয়ারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এই সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক সুরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ বা জনতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষায় আকাশভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এটি সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
Leave a Reply