অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইনের পিচে অজি ব্যাটারদের দিশেহারা করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এই কীর্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি পেসার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে নিজের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসান জানান, প্রতিটি উইকেটই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবগুলোর মধ্যে স্টিভ স্মিথের উইকেটটি তার কাছে সবচেয়ে বেশি বিশেষ। স্মিথের উইকেট পাওয়ার পেছনে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অনুমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্মিথ তখন আক্রমণাত্মক হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তার মনে হয়েছিল। সেই ধারণা থেকেই তিনি বাউন্সার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শেষ পর্যন্ত স্মিথ সেই বলে পরাস্ত হন।
হাসান বলেন, স্মিথের উইকেটটি তার কাছে বিশেষ কারণ সেই মুহূর্তে ব্যাটারের মানসিকতা বুঝতে পেরে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হয়েছেন। তবে নিজের ব্যক্তিগত সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি একা নিতে রাজি নন। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অধিনায়ক ও সতীর্থদের দারুণ সমর্থনের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন এই পেসার। তিনি জানান, দলের সবার সম্মিলিত শক্তির কারণেই এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
ডারউইনের কন্ডিশনও হাসানের এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সকালের আর্দ্রতা, পিচের নরমভাব এবং সিম মুভমেন্টের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করেছেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ধারাবাহিক বোলিংও অজি ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে। ফলে প্রথম সেশনে চার উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনেও অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। এই ইনিংসে ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ ও জ্যাক ওয়েদারল্ডের মতো ব্যাটারদের সাজঘরে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন হাসান। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের মাটিতেও পাঁচ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও এই অর্জনের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিলেন এই ডানহাতি পেসার।
তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট ফাইফারকে সেরা বলতে নারাজ হাসান। ভারত, পাকিস্তান কিংবা অস্ট্রেলিয়া—প্রতিটি অর্জনকেই তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। এখন তার মূল লক্ষ্য হলো এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সামনের দিনগুলোতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
ডারউইনে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান।
অধিনায়কও আমাদের দারুণ সমর্থন করেছে,’ বলেন হাসান।
একে একে ছয় অজি ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন এই পেসার।
বরং সকাল থেকে সতীর্থদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অধিনায়কের সমর্থনকেই সামনে রেখেছেন তিনি।
কারণ পাঁচটি উইকেট ছাড়া তো ফাইফার হতো না।
তবে সকাল থেকে দলের যে শক্তি ছিল এবং মাঠে সবাই যেভাবে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেছে, তার কৃতিত্ব অবশ্যই সতীর্থদের দিতে হবে।
তবে নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে স্মিথের উইকেটকেই সবার ওপরে রেখেছেন হাসান।
হাসানের ভাষায়, ‘আমি অবশ্যই স্মিথের উইকেট বলব।
সে বুঝতে পারছিল না আমি কী করতে যাচ্ছি।
আমার প্রবৃত্তি বলছিল, সে আক্রমণাত্মক কিছু করার চেষ্টা করবে।
তাই আমি বাউন্সার করেছি, আর সে সেটি মিস করেছে।’
তিনটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
Leave a Reply