ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশটি এখন উল্টো আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অন্তত একটি পেট্রোলের চালান ইতিমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বুধবার জ্বালানি আমদানির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কোন দেশ থেকে কত পরিমাণ জ্বালানি আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
শিল্প খাতের তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওমানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার পোর্ট সাইদের কাছে সমুদ্রে ‘শিপ-টু-শিপ’ পদ্ধতিতে প্রায় ৬৮ হাজার টন পেট্রোল সংগ্রহ করে। এই জ্বালানি ভারতের ভাদিনার বন্দরে ‘অগ্নি’ নামের একটি ট্যাংকারে তোলা হয়েছিল। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগস্টের শুরুর দিকে ট্যাংকারটি রাশিয়ার আর্কটিক বন্দর ভিতিনোতে পেট্রোল খালাস করেছে।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড ও দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বেলারুশ ও কাজাখস্তান থেকেও রেলপথে পেট্রোল আমদানির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে রাশিয়া। এছাড়া এশিয়া থেকে ডিজেল আমদানিও শুরু করেছে দেশটি।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়া এখন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘রোসনেফট’ ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের সব ফিলিং স্টেশনে এখন থেকে একবারে সর্বোচ্চ ৩০ লিটারের বেশি পেট্রোল কেনা যাবে না। জ্বালানি রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া যখন কম দামে তেল বিক্রি করছিল, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের নতুন এক মোড় দেখা যাচ্ছে, যেখানে রাশিয়া এখন ভারতের পরিশোধিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারত থেকে আরও অন্তত দুটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে নিজেদের পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় রাশিয়া এখন আমদানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের কোনো পক্ষই শান্তি আলোচনায় ছাড় দিতে রাজি নয়। এর মধ্যেই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। গত কয়েক মাসে রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ফলে জ্বালানি খাতে এই বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি / রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানো নিয়ে জটিলতা, আইন মন্ত্রণালয়ের যে মত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের নামে পাচার / ‘অভিশপ্ত নরক থেকে ফিরেছি’: চীনে পাচার হওয়া এক নারীর অভিজ্ঞতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানের নতুন কৌশল ট্রাম্পের জন্য অশনি সংকেত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউক্রেনকে ড্রোন দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করল রাশিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে যুদ্ধে জড়ানোর পর দেশটির জ্বালানি খাত বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাহাজ চলাচলের তথ্যেও এর প্রমাণ মিলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া সফরে গেলেন মিন অং হ্লাইং।
Leave a Reply