জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, যেখানে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা আগেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে ভোট দেননি।
বাম ধারার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় বেগম খালেদা জিয়া তাকে দলের মহাসচিবের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় তিনি শেষবারের মতো যোগ দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে এখন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply