রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর পাশে গণপরিবহন যাত্রীদের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো এখন চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। অধিকাংশ ছাউনিই এখন হকার, ভাসমান দোকান কিংবা ছিন্নমূল মানুষের ঘুমানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে এসব অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ৬১টির বেশি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে প্রায় ৭০টিসহ রাজধানীতে মোট ১৩০টিরও বেশি যাত্রীছাউনি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে ১০০টির বেশি নতুন ছাউনি নির্মাণ করেছিল। লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট কমানো। কিন্তু পাঁচ বছর পর বাস্তবতা ভিন্ন।
শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত ডিএসসিসির যাত্রীছাউনিটি এখন ভাসমান মানুষের আশ্রয়স্থল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী আহসান জানান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও দেখা যায় কোনো বাসই ছাউনির সামনে থামছে না। সবাই মোড় থেকে যাত্রী তুলছে, ফলে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। একই চিত্র দেখা যায় গুলশান-১ লেক রোডে, যেখানে ছাউনিটি ফলের বাজারে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নিউমার্কেট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, বনানীর কাকলী, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও ছাউনিগুলোর বেহাল দশা। কোথাও বেঞ্চ ভাঙা, কোথাও ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে, আবার কোথাও ছাউনিকে মালামাল রাখার গুদাম বা গাছের চারা প্রদর্শনের র্যাক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চাকরিজীবী মামুনুর রশীদ বলেন, ছাউনির নিচে বসার জায়গা নেই, তাই বাসের জন্য রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, ছাউনিগুলোতে ওয়াই-ফাই, পানযোগ্য পানি বা মোবাইল চার্জ দেওয়ার মতো যেসব সুবিধা থাকার কথা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও নেই। উল্টো ময়লা-আবর্জনা আর দখলদারিত্বের কারণে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পে যাত্রীছাউনিগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বাস বে, ফুটপাত এবং পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দ্রুত এসব ছাউনি দখলমুক্ত করে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাব রয়েছে। ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজীব খাদেম জানান, অনেক ছাউনি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা সংস্কার ও নতুন ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান জানান, এসব ছাউনির জন্য আলাদা কোনো বাজেট না থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধ্যমতো তারা ক্ষতিগ্রস্ত ছাউনিগুলো মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিবাসী ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আটকে দিলেন আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকাই টেস্ট / ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে যেখানে শরিফুল টেস্ট ইতিহাসে প্রথম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকাই টেস্ট / স্টার্ক-শরিফুলের ঝলকে বাঁহাতি পেসের দিনে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের কাছে, পল্টন থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে একটি যাত্রীছাউনি আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সারাদিন হকার ও ভাসমান দোকানের দখলে থাকে জায়গাটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে পাঁচ বছর পর দেখা যাচ্ছে, যাত্রীছাউনি দিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি।
Leave a Reply