মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আগ্রাসনের শাস্তি’ নামের এই সমন্বিত অভিযানে জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানসহ প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। উভয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের কোনো ঘাঁটিতেই হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। লারাক দ্বীপে রবিবারের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে রবিবারের মার্কিন হামলাকে ‘আগ্রাসী কার্যকলাপ’ হিসেবে অস্বীকার করেছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীকে মাইন স্থাপন করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নিয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরানকেই দায়ী করেছে। অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে যে এই মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চলমান সংঘাত বর্তমানে সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লারাক দ্বীপ ও জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার এই ঘটনা দীর্ঘমেয়ায়ী সামরিক সংঘাতকে আরও উস্কে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও তেলের দামেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব আরও বিধ্বংসী উপায়ে দেওয়া হবে এবং তারা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে লড়তে প্রস্তুত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তেল পরিবহন বজায় রাখার দাবি করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত জুলাই মাসের শেষের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ফের তীব্র সহিংস সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সংঘাতের পটভূমি।
Leave a Reply