দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার মান, নৈতিকতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অভিন্ন ‘চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা’ তৈরির কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে দেশের ১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রতি ইউজিসি ভবনে একটি অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নিজস্ব নীতিমালা থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এই শূন্যতা পূরণে একটি অভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে এই কাঠামো সরাসরি অনুসরণ করতে পারবে অথবা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিমার্জন করে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও জানান, এর আগে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারে প্রাপ্ত সুপারিশ এবং বর্তমান সংলাপে উপাচার্য ও প্রতিনিধিদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খসড়া নীতিমালায় যুক্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় এটি চূড়ান্ত করে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নের জন্য পাঠানো হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব গবেষণায় নৈতিকতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকা অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা দেশের গবেষণার ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য উদ্বেগজনক। একটি অভিন্ন নীতিমালা থাকলে গবেষণার মৌলিকত্ব বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংলাপে প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে চৌর্যবৃত্তির সংজ্ঞা, শনাক্তকরণ পদ্ধতি, অভিযোগ তদন্ত, দায় নির্ধারণ, শাস্তির বিধান এবং আপিলের প্রক্রিয়া। এছাড়া অংশীজনেরা গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, দুর্গা রানী সরকার ও মোছা. জেসমিন পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। খসড়া নীতিমালার কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন ইউজিসির উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ ও সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ।
Leave a Reply