বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘ইনোভেশন বাংলাদেশ ফেয়ার ২০২৬’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই মেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের গবেষণালব্ধ ১২টি উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মেলা চলবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরছে। স্থানীয় কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা, ফসল তোলার পরবর্তী অপচয় রোধ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এই মেলার মূল লক্ষ্য।
হাবিপ্রবির প্রদর্শিত ১২টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৯টি খাদ্যপণ্য, ১টি জৈব সার এবং ২টি বিশেষ ট্রাইকোডার্মা-ভিত্তিক ক্যারিয়ার ম্যাটেরিয়ালস। খাদ্যপণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তরমুজের খোসা ও কাঁচা পেঁপে দিয়ে তৈরি টুটি ফ্রুটি, কাঁঠালের গুড়, দীর্ঘ সময় সংরক্ষণযোগ্য লিচু, টক ও মিষ্টি দইয়ের পাউডার, হাইড্রোজ-মুক্ত মোরব্বা, ব্ল্যাক গার্লিক, জিরো ওয়েস্ট টমেটো পাউডার এবং টমেটো সস পাউডার। ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদের নেতৃত্বে এসব খাদ্যপণ্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। তিনি জানান, হাবিপ্রবির এই প্রযুক্তিগুলো জনকল্যাণে ব্যবহৃত হবে এবং নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় দেশ এগিয়ে যাবে।
কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. মহিদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মা-ভিত্তিক জৈব সারটিও মেলায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, কাঠের গুঁড়া ও মোলাসিসসহ মোট ৯টি উপাদানে তৈরি এই সার মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও রোগ দমনে অত্যন্ত কার্যকর। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই সার ব্যবহারের ফলে টমেটো গাছে ফলন দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া ট্রাইকোডার্মার নতুন ক্যারিয়ার ম্যাটেরিয়াল হিসেবে চারকোল ব্যবহার করে ‘সয়েল কিং’ এবং স্প্রে-উপযোগী ট্যালকম পাউডার ভিত্তিক ‘ক্রপ কিং’ তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বাজারে প্রচলিত পণ্যের তুলনায় হাবিপ্রবির এই উদ্ভাবনগুলো ব্যতিক্রমী, কারণ এতে একাধিক প্রজাতির ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করা হয়েছে এবং চারকোল ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সহজেই আসল পণ্য শনাক্ত করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামউল্যা ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান মেলায় হাবিপ্রবির স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। হাবিপ্রবির এই উদ্ভাবনগুলো স্থানীয় কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এই প্রযুক্তিগুলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় কৃষিপণ্যকে নতুনভাবে ব্যবহার করে মূল্য সংযোজন, ফসল তোলার পর অপচয় (পোস্ট হারভেস্ট লস) কমানো এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে ট্রাইকোডার্মা-ভিত্তিক জৈব সার।
Leave a Reply