যুদ্ধ, বাণিজ্য শুল্কের অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি এবার বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তির মাইলফলক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছেন।
২০২৪ সাল থেকে জোটের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। নতুন সদস্য হিসেবে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়া ব্রিকসে যুক্ত হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে জোটটি এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোটটিকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারত ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যে এখন উভয় পক্ষই ধীরে ধীরে কাজ করছে। জিন্দাল গ্লোবাল ল স্কুলের অধ্যাপক ও সহকারী ডিন ভেসেলিন পোপোভস্কি এবং অ্যামিটি ল স্কুলের শিক্ষক ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জাস্টিস অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্সেসের সম্মানসূচক অধ্যাপক পাওয়ান কুমার ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ও এর প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতকে এই সম্মেলনে বাণিজ্য, অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামলাতে হচ্ছে। আল জাজিরার নয়াদিল্লি প্রতিনিধি উম-ই-কুলসুম শরিফের মতে, ব্রিকসের দুই দশকের যাত্রায় এবারের সম্মেলনটি একটি বড় পরীক্ষা। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির পর জোটটি বিশ্ব দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) দেশগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরির যে লক্ষ্য ব্রিকস নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তি হওয়ায় সম্মেলনটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন, রাশিয়া ও ইরানের শীর্ষ নেতারা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এবারের আলোচনায় বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এসব শুল্ক ও বাণিজ্য বাধার বিরোধিতা করেছেন।
Leave a Reply