1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 4:15 am

ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা: গ্রেপ্তার ১০০০

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, October 25, 2026
  • 51 দেখা হয়েছে

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে আবারও রাজপথে নেমে এসেছেন লাখ লাখ মানুষ। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রায় ১০০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিসসহ প্রধান শহরগুলোতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যদিও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। আমাদের টাকা নেয়, অনেক কর আরোপ করে, অথচ আমরা কিছু বলতে পারি না।

দিনের শুরুতে মিছিলগুলো শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

প্যারিসের পোর্ট দ্য ইতালি থেকে পোর্ট দ্য ভিনসেন পর্যন্ত আয়োজিত মিছিলের শেষ পর্যায়ে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। একদল বিক্ষোভকারী অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটসহ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৫০০ দাঙ্গাবাজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো ও লিয়ঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মার্সেইয়ের বুশ-দ্যু-রোন অঞ্চলে অন্তত সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেইয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে রাস্তায় তৈরি ব্যারিকেড। বোর্দো শহরে একটি ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে তা দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ঘটনাও ঘটেছে। তবে গত সপ্তাহান্তের তুলনায় এবার দাঙ্গা, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা এড়াতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণ একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙতে শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। বিবিসি বলছে, অভিযানে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সাধারণত ব্যবহৃত একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটও অংশ নিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, মিছিলের পেছনের অংশে কয়েক হাজার উগ্রপন্থী কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহের একই দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যার তুলনায় এটি অর্ধেকেরও কম। এদিকে ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৫০ জন ছিলাম। একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে চলতে দেখা গেছে। লিয়ঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় জড়ো হওয়া একটি জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। বেশির ভাগই মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রোববার ভোরেও বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

বিক্ষোভের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুলুজ শহরের একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, বিস্ফোরণে ২০ বছর বয়সী এক তরুণের হাতের কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তুলুজ ও ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহর থেকে অন্তত দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা করের বোঝা এবং সরকারের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ২৬ বছর বয়সী জেলি নামের এক নারী বলেন, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শাসনামলে তারা চরম হতাশা ও দুর্ভোগের শিকার। তরুণ প্রজন্মের অভিযোগ, সরকার তাদের পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছে এবং প্রতিবাদ জানালেও কোনো সমাধান মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুখোশ পরা দুই কিশোর বিক্ষোভকারীও বলেন, তাদের প্রজন্ম হতাশ এবং সরকারের কাছ থেকে পরিত্যক্ত বোধ করছে।

এদিকে ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি (আরএন) দলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পৃথক সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে কট্টর ডানপন্থি মারিন লে পেন এবং কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়িয়ে তুলেছে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভ-সহিংসতায় ফ্রান্সের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira