যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তার প্রথম স্বামী আহমেদ হিরসির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করেছেন, ইলহানের কথিত ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমি মিনেসোটায় তাদের সঙ্গে থাকতে আসার পর দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এলমিকে নিয়ে হিরসি চরম অস্বস্তি প্রকাশ করতেন বলেও ওই ব্যক্তি দাবি করেন। তবে এসব দাবিগুলো ওই পারিবারিক বন্ধুর ব্যক্তিগত বয়ানের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে কোনো নতুন তথ্য নেই। ইলহান ও হিরসির সন্তান ইসরা হিরসি ও আদনান হিরসির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এলমির জীবনযাপন তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে হিরসি উদ্বিগ্ন ছিলেন।
ইলহান ও হিরসির ২০০২ সালে একটি ইসলামি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। একই বছর ইলহান ব্রিটিশ নাগরিক এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন, যা ২০১৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। তবে এলমিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক রয়েছে। ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে এলমিকে বিয়ে করে অভিবাসন-সুবিধা নেওয়ার সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইলহানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয় এবং প্রায় চার বছর পর তারা আবার একত্র হন। ২০১৮ সালে তারা আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ইলহানের দাবি, এলমির সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১১ সালে, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো কয়েক বছর লেগেছিল।
হিরসির বন্ধু আরও অভিযোগ করেন, এলমিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই ইলহান তাকে আইনগতভাবে বিয়ে করেছিলেন।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে এ অভিযোগের পক্ষে ওই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
এদিকে, ইলহান ও হিরসি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যৌথভাবে করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন, যখন ইলহানের সঙ্গে এলমির আইনগত বিয়ে বহাল ছিল।
পরে ওই নথিগুলো সংশোধন করা হয়।
ইলহান ও হিরসি শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে ইলহান তার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা টিম মাইনেটকে বিয়ে করেছেন। হিরসি এলমিকে নিজের সন্তানদের কাছাকাছি দেখতে চাইতেন না বলেও ওই বন্ধু দাবি করেন।
এলমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু সময় কাটান এবং পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের কাজ করছেন এবং গবেষণা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে কুইয়ার গবেষণা, উপনিবেশমুক্তকরণ এবং লিঙ্গবিষয়ক গবেষণা। ইলহান ও ওমরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগগুলো ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সামনে এলেও তিনি সব সময় তা অস্বীকার করেছেন। নতুন এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply