1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 7, 2026, 4:21 am

ইতিহাস ও সাহিত্যে ভূত এবং প্রেতের পার্থক্য কী?

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, October 31, 2026
  • 39 দেখা হয়েছে

বিশ্বজুড়ে মানুষের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও অতিপ্রাকৃত জগতের ধারণা বেশ গভীর। ২০২৩ সালে ইপসোস পরিচালিত একটি জরিপে অংশ নেওয়া ২৬টি দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষই ভূত ও প্রেতের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের ইউগভ জরিপেও প্রায় সমানসংখ্যক আমেরিকান ভূত ও প্রেতের বাস্তবতায় আস্থা রেখেছেন। তবে এই অতিপ্রাকৃত সত্তাগুলো নিয়ে মানুষের মনে বিভ্রান্তি রয়েছে। ভূত ও প্রেতের মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর পার্থক্য রয়েছে, যা ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এইচএসসি-সমমান / এক-দুই বিষয়ে ফেল পরীক্ষার্থীদের জন্য এক মাসের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা। এইচএসসি-সমমান / পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সবার নিচে বরিশাল। সারা দেশের কোমর ভাঙা, মেরামত করতে হবে: শফিকুর রহমান। আত্মিক জগৎ বা স্পিরিট ওয়ার্ল্ডে বিশ্বাস অনেক ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রখ্যাত ম্যাকঅ্যালিস্টার কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের সহযোগী অধ্যাপক পেনিলোপে গেংয়ের মতে, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর ইউরোপের রেনেসাঁ যুগে গণমাধ্যমের উত্থান, উপনিবেশ বিস্তার এবং বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সাধারণ মানুষ তাদের বিশ্বাসকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। সেই সময়ের সাহিত্যে ভূত ও প্রেতের রূপায়ন ওই যুগের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতার এক প্রতিচ্ছবি ছিল। চীনা লেখক পু সং লিংয়ের সপ্তদশ শতকের ভয়ংকর ভূত এবং শেক্সপিয়রের রচনার ভূতগুলো একে অপরের থেকে একেবারেই আলাদা, যা ওই সময়ের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীনা লেখক পু সং লিংয়ের সপ্তদশ শতকের বই স্ট্রেঞ্জ টেলস ফ্রম আ চাইনিজ স্টুডিও-তে যে ভয়ংকর ভূতদের দেখা যায়, তারা ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের রচনায় থাকা ভূতদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। ম্যাকঅ্যালিস্টার কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের সহযোগী অধ্যাপক পেনিলোপে গেং এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘আমি প্রারম্ভিক আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের একজন গবেষক। এটি এমন এক যুগ, যখন মুদ্রণ প্রযুক্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমের জন্ম, উপনিবেশের বিস্তার এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উত্থান ঘটেছিল। ‘এই সময়ের সাহিত্য খুঁজে দেখলে বোঝা যায়, মানুষ তখন ভূত ও প্রেত সম্পর্কে কী ভাবত এবং কীভাবে দুটিকে আলাদা করে দেখত’, লেখেন তিনি। সেখানে তিনি ক্যাথলিক চার্চের এমন একটি ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন, যেখানে বলা হতো, অর্থ দান করলে মৃত আত্মার পারগেটরিতে (মৃত্যুর পর আত্মার শুদ্ধিকরণের অন্তর্বর্তী স্থান) কাটানো সময় কমে যায়। জার্মানির উইটেনবার্গে স্থানীয় প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই ঘটনা দ্রুতই পুরো ইউরোপে ভয়াবহ ধর্মীয় সংঘর্ষে রূপ নেয়। শহরগুলো অবরুদ্ধ হয়, গ্রাম পুড়ে যায় এবং মানুষ লুণ্ঠনের শিকার হয়।

১৫১৭ সালের ৩১ অক্টোবর মার্টিন লুথারের ‘নাইনটি-ফাইভ থিসিস’ প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হওয়া ধর্মসংস্কার আন্দোলন ইউরোপের মানুষের চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন আনে। ১৫১৭ সালের ৩১ অক্টোবর, আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা এক সাবেক শিক্ষার্থী ও সন্ন্যাসী মার্টিন লুথার তার বিখ্যাত ‘নাইনটি-ফাইভ থিসিস’ প্রকাশ করেন। এই সময়টি ‘রিফর্মেশন’ বা ধর্মসংস্কার আন্দোলন নামে পরিচিত।

প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা পারগেটরির ধারণা প্রত্যাখ্যান করে প্রচার করে যে মৃত্যুর পরেই আত্মার বিচার হয়—সৎরা স্বর্গে এবং পাপীরা নরকে শয়তানের শাস্তি ভোগ করে।

তাদের মতে, ভূতের ধারণা ছিল ক্যাথলিক পুরোহিতদের তৈরি এক কৌশল, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের অনুগত রাখা হতো।

১৫৭২ সালে প্রকাশিত লুডভিগ লাভাটারের বই ‘অফ গোস্টস অ্যান্ড স্পিরিটস ওয়াকিং বাই নাইট’-এর অনুবাদকের ভাষ্যমতে, ভূত হলো মূলত ভিক্ষুদের সাজানো মিথ্যা বা শয়তানের ছলনা।

তবে ধর্মীয় নেতাদের কঠোর নিষেধ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কল্পনায় ভূত ও প্রেতের স্থান ছিল অটল।

১৬৬২ সালের এক পুস্তিকা ‘আ স্ট্রেঞ্জ অ্যান্ড ওয়ান্ডারফুল ডিসকভারি অব আ হরিড অ্যান্ড ক্রুয়েল মার্ডার’-এ ইসাবেল বিনিংটন দাবি করেন যে, এক মৃত ব্যক্তির ভূত তার সামনে উপস্থিত হয়ে মৃত্যুর বর্ণনা দিয়েছিল। ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি / মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ।

আবার ১৭৩০ সালের জনপ্রিয় গান ‘দ্য সাফোক মিরাকল’-এও মৃত প্রেমিকের আত্মার ফিরে আসার কাহিনী ফুটে ওঠে।

নাট্যকার শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’, ‘ম্যাকবেথ’ বা ‘রিচার্ড থার্ড’-এর মতো ধ্রুপদী নাটকগুলোতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী আত্মার চরিত্রগুলো তৎকালীন মানুষের বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন করে।

অন্যদিকে, প্রেত বা শয়তানি শক্তিকে মানুষ আরও ভয়ংকর ও বিধ্বংসী হিসেবে দেখত। ইংল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জেমস ১৫৯৭ সালে তার ‘ডিমনোলজি’ গ্রন্থে শয়তানের আক্রমণকে বাস্তব হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সপ্তদশ শতকের ধর্মযাজক টমাস হলও তার ডায়েরিতে ছোটবেলা থেকে শয়তানের প্রভাবে স্বপ্ন দেখার কথা উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন মানুষের কাছে ভূত ছিল সদ্যমৃত কোনো মানবিক আত্মা, যে পরিচিতজনের টানে পৃথিবীতে ফিরে আসে। পক্ষান্তরে, প্রেত ছিল নরকের প্রতিনিধি, যার একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে পাপের পথে চালিত করা এবং ধ্বংস সাধন করা।

সাহিত্যের আলোকে এই পার্থক্যের বিশ্লেষণ আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির বিশ্বাস ও কল্পনাকে বুঝতে সহায়তা করে। হ্যামলেটের উক্তি অনুযায়ী, এই পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে যা আমাদের সাধারণ চিন্তার জগতের বাইরে। ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে এই অতিপ্রাকৃত রহস্য ও গল্পের আবেদন আজও মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও রোমাঞ্চ জাগিয়ে রাখে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে হ্যালোইনের মতো বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira