ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটির পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলি আকবারি।
শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো বা আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া মানেই এই নয় যে, ইরানকে তার সতর্ক অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। অতীতে আলোচনার বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ও বিপদের আশ্রয় নিয়েছিল বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনার কথা বলে এবং বার্তা পাঠায়, তখন অনেক সময় প্রকাশ্যে যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার চেয়েও বড় কোনো বিপদ বা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা থাকে। তার নেতৃত্বেই সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাজ আলি আকবারি আরও বলেন, পরমাণু নীতি পরিবর্তনের এ প্রস্তাব কোনো আবেগতাড়িত বা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি সচেতন জাতীয় দাবি। তার ভাষ্যমতে, ইরানের শত্রুরা দেশটির সব ধরনের রেড লাইন অতিক্রম করেছে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এখন দেশের জনগণ আরও সচেতনভাবে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারের উপায় হিসেবে এই নীতি পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছে। খতিব বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে ইরানি জনগণ বছরের পর বছর ধরে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের অন্যতম উপায় হিসেবেই তারা বিষয়টিকে দেখছে। এ প্রস্তাবের বিষয়ে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মহলের দাবি নয়; বরং পুরো জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
খতিব জানান, অতীতে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশগ্রহণকারী ইরানের পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকার অধিকার থেকেই সাধারণ মানুষ এই দাবি সামনে নিয়ে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে সমর্থন ও দাবি জোরালো হয়েছে।
জাতীয় এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের এ বিষয়ে গবেষণা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন হাজ আলি আকবারি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন যেন এসব প্রস্তাব যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা হোসেইনি খামেনির কাছে পেশ করা হয়। সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরমাণু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতেই ন্যস্ত এবং তার সিদ্ধান্তই পুরো জাতি মেনে চলবে।
Leave a Reply