শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে বিদ্যমান ঘাটতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই দায়ী করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার থেকে পাঁচ মাস প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে এমন কোনো ওরিয়েন্টেশন বা প্রস্তুতির ব্যবস্থা নেই, যা মন্ত্রণালয়টির বড় ব্যর্থতা। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে।
একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীরা নিয়োগ পেলেও ক্যাডারভেদে প্রশিক্ষণের এই বিশাল পার্থক্য কেন রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি শিক্ষকতায় যোগ দিচ্ছেন, যা কাম্য নয়। অথচ যারা শিক্ষকতায় আসছেন, তারা সবাই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। অথচ তারাও একই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে এসেছেন। কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিসিএস ক্যাডারদের মধ্যে অনেক সময় শিক্ষা ক্যাডারকে অন্য ক্যাডারের তুলনায় ছোট করে দেখার প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু এর দায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। তিনি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে বলেন, একই বিসিএস হওয়া সত্ত্বেও অ্যাডমিন ক্যাডারের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে, অথচ শিক্ষকদের জন্য কেন নেই, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ড. মিলন নিজের দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই অবহেলা বা উদাসীনতা দূর করা জরুরি। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি সরকারি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি জানান।
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে কেবল এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল থাকে।
ডিগ্রি, অনার্স কিংবা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে সেই অর্থে কোনো আলোচনা বা তদারকি হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান যথাযথভাবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কেবল পরীক্ষার ফলের ওপর নজর না দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
Leave a Reply