1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 4:08 am

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব জোটের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Monday, November 2, 2026
  • 26 দেখা হয়েছে

ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-আরব দলগুলোর জোট ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে।

পার্লামেন্ট নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন অর্জন করায় সরকার গঠন ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর প্রধান জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তারা বিরোধী ‘চেঞ্জ’ জোটের সাথে সমন্বয় করতে প্রস্তুত। জাবারিনের ভাষ্য, প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি ভোটারের প্রধান দাবি হলো নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। আশা করি, বিরোধী শিবিরে এমন অংশীদার পাওয়া যাবে, যারা এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে।’। নতুন সরকার গঠন সহজ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘চেঞ্জ’ জোটের দলগুলোকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য একজন প্রার্থী ঠিক করতে হবে। ডানপন্থী বিরোধী নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে। নেতানিয়াহুকে সরিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন এবং সেটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে ইসরায়েলি সমাজের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন জাবারিন।

তার ভাষ্যমতে, ইসরাইলের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়ার এটি এক বিরল সুযোগ। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

নির্বাচনের পর থেকেই ইসরাইলের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি-আরবদের প্রভাব বেড়েছে। ইউসেফ জাবারিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, নেতানিয়াহু এবং তার ডানপন্থি মিত্রদের নেসেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে আনতে তাদের জোট সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও বাইরে থেকে পূর্ণ সমর্থন জোগাবে। জাবারিনের মতে, আরব সম্প্রদায়ের জন্য গত চার বছর ছিল চরম বৈষম্য ও নিপীড়নের। এ সময় তাদের বাড়িঘর ভাঙা, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার বঞ্চনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আরব অধ্যুষিত এলাকায় বাড়িঘর ভাঙা, অপরাধী চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না দেওয়া এবং তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব ছিল এ সময়ের বড় সমস্যা। উত্তর ইসরাইলের উম্ম আল-ফাহম শহরে নিজের পারিবারিক বাসভবনে জাবারিন বলেন, আইজেনকোটের দেওয়া শর্তগুলো মূলত সরকারে সরাসরি অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য প্রযোজ্য। তিনি বলেন, ‘নীতিতে পরিবর্তন আনা, আরব সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর এটি একটি সুযোগ। ৫৪ বছর বয়সী জাবারিন পেশায় আইন বিষয়ে সাবেক অধ্যাপক। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে আরব সম্প্রদায় কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আইজেনকোট যদি পরিবর্তনের কথা বলেন, তবে সেই পরিবর্তনের সুফল আরব সম্প্রদায়ের কাছেও পৌঁছাতে হবে।

নির্বাচনে ইসরাইলের আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অংশগ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। জাবারিন মনে করেন, এই বিপুল অংশগ্রহণ দেশটির রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। তিনি জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো কট্টরপন্থি নেতাদের সরকারের বাইরে রাখা।

পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৬৮ থেকে কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, জেনারেল গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ‘চেঞ্জ’ জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলোর জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন এবং ইসলামপন্থি দল রা’আম পেয়েছে আটটি। আইজেনকোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের মতো শর্ত দিয়েছেন। নির্বাচনে কোনো একক জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৫৩-তে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা ১৯, যা দেশটির পার্লামেন্টে তাদের জন্য রেকর্ড। জয়েন্ট লিস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের বিষয়টি লিবারম্যানের জন্য সত্যিই আপত্তিকর, নাকি তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রিত্ব পাওয়ার জন্য দর-কষাকষি করছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রা’আম নেতা মানসুর আব্বাস সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও, জয়েন্ট লিস্ট ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। জাবারিন বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদারত্ব অব্যাহত থাকায় কোনো সরকারের অংশ হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পার্লামেন্টে কৌশলগত ভোটের মাধ্যমে বিরোধী জোটকে টিকিয়ে রাখতে তারা সাহায্য করবেন। তাদের দাবি, নতুন সরকারকে আরবদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং ফিলিস্তিনি সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতারের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহারের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন। জাবারিনের অভিযোগ, আরবদের রাজনৈতিক শক্তিকে অগ্রহণযোগ্য করতে এটি ছিল এক ধরনের উসকানি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার পালাবদল ঠেকাতে নেতানিয়াহু হয়তো নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন, যা এই মুহূর্তে ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ, শারীরিক হামলা এবং পুলিশের নিষ্ঠুর আচরণ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

বর্তমানে নতুন সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা কাটছে না।

তবে জাবারিন মনে করেন, নেসেটে থাকা ৬৭ জন নেতানিয়াহুবিরোধী সদস্য মিলে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, নতুন সরকার গঠনের আগেই নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন এবং তদারকি কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ করলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নকারী আইনগুলো বাতিল করাও তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira