২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ—ফাইনাল ম্যাচটি কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজা সম্প্রতি এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কাসাব্লাঙ্কার বেনস্লিমান শহরে বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করতে চান। সেখানে নির্মাণাধীন ‘হাসান ২ স্টেডিয়াম’-এ ফাইনাল আয়োজনের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। ২০২৭ সালের শেষ দিকে উদ্বোধন হতে যাওয়া এই স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিতি পাবে।
অন্যদিকে, স্পেনও ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে নারাজ। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান গত ৪ সেপ্টেম্বর সেউতায় এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, বর্তমান ফুটবলের মানদণ্ডে স্পেনই সেরা এবং ফাইনাল আয়োজনের নৈতিক অধিকার তাদেরই। স্পেনের হাতে ফাইনাল আয়োজনের জন্য দুটি বিশ্বমানের ভেন্যু রয়েছে—মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। সংস্কার কাজ শেষ হলে ক্যাম্প ন্যুর দর্শক ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার, আর বার্নাব্যুতে আসন সংখ্যা ৭৮ হাজার ২৯৭টি।
এই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবির মুখে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফিফার এক মুখপাত্র স্পেনের বার্তা সংস্থা ইএফইকে জানিয়েছেন, উপযুক্ত সময়েই তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা তুঙ্গে।
ফাইনাল ভেন্যু নিয়ে এই বিরোধের পাশাপাশি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তাদের চাপের মুখে রয়েছেন। উয়েফার নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্রান্সসহ অনেক দেশ তার ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে ইনফান্তিনো দেশটিকে ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য যে, ইনফান্তিনো সম্প্রতি মরক্কো সফর করেছেন এবং দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের সিংহাসনে আরোহণের বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। আগস্ট মাসেও তিনি মরক্কোয় ফিফার একটি বৈঠকে যোগ দেন। একদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে ফিফার সম্পর্কের টানাপোড়েন, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সাথে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু নির্ধারণের বিষয়টি এখন বেশ জটিল মোড় নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে কোথায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে এখনই আলোচনা হচ্ছে মূলত আয়োজক দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশন প্রধানদের বক্তব্যের কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক, আর এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে বলুক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর আমি আশা করি, ফাইনালে মরক্কোই খেলবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি নির্মিত হলে ধারণক্ষমতার দিক থেকে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলা শেষেই কোচের পদত্যাগ, ক্লাব সভাপতি বললেন, যত দিন আছি তিনিই কোচ।
Leave a Reply