1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:06 am

রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের সংকট নিয়ে আবুল মনসুর আহমদের চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, September 6, 2026
  • 46 দেখা হয়েছে

সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের চিন্তাধারায় কোনো নির্দিষ্ট গৎবাঁধা মতাদর্শের চেয়ে জনগণের প্রয়োজন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং উপযোগিতাকে সবসময় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছিল, তা তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর উত্থাপিত রাষ্ট্র, ধর্ম ও গণতন্ত্র বিষয়ক প্রশ্নগুলো বর্তমান সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘ধর্মশাসিত রাষ্ট্র, না রাষ্ট্রশাসিত ধর্ম?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘আবুল মনসুর আহমদ: ডেমোক্রেসি অ্যান্ড দ্য নোভেল্টি অব দ্য পাকিস্তানি কনস্টিটিউশনাল এক্সপেরিমেন্ট’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের হুইটম্যান কলেজের শিক্ষক ও গবেষক তৈমুর রেজা। তিনি ১৯৫৬ সালের গণপরিষদে আবুল মনসুর আহমদের ফেডারেল কাঠামো বিষয়ক প্রস্তাবনার ওপর আলোকপাত করেন। তৈমুর রেজা বলেন, ওই প্রস্তাবনার কেন্দ্রে ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার রাজনৈতিক সংকট। পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, শক্তিশালী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে চলে যাবে। তাই আবুল মনসুর আহমদ জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের ক্ষমতা সীমিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তৈমুর রেজা আরও উল্লেখ করেন, আবুল মনসুর আহমদের ফেডারেল চিন্তার অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘দুই অর্থনীতি’ ধারণা। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানের দুই অংশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে তিনি ভিন্নভাবে দেখেছিলেন। তাঁর মতে, একটি একক অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে দুই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করা অসম্ভব, যা পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনা বাড়িয়ে তুলবে। এছাড়া ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও লাহোর প্রস্তাবকে তিনি গণপরিষদের সদস্যদের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করতেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, আবুল মনসুর আহমদকে বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তার বাস্তববাদী বা ‘প্র্যাগম্যাটিক’ চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক প্রজা পার্টি থেকে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে তাঁর বিবর্তন এবং আত্মজীবনীতে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা—সবক্ষেত্রেই তিনি জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ১৯৫৬ সালের সংবিধান বিতর্কে তিনি লাহোর প্রস্তাবকে এমন একটি ফেডারেল ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে দেখেছিলেন, যেখানে প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত থাকবে। ১৯৭২ সালেও তিনি একই যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে লাহোর প্রস্তাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং তা বাস্তবায়িত হয়েছে। মোহাম্মদ আজমের মতে, আবুল মনসুর আহমদ যে সমস্যাগুলো নিয়ে লিখে গেছেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

সমাজ বিশ্লেষক ও গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, আবুল মনসুর আহমদের প্রাসঙ্গিকতা কেবল তাঁকে স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর চিন্তাকে বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজে প্রয়োগ করার মধ্যেই নিহিত। ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে সতর্কতা দিয়ে গেছেন, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রকে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের হাত থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। তাঁর মূল্যবোধ ধারণ করতে পারলেই বর্তমানের রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াইয়ে তাঁকে জীবন্ত রাখা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক ইমরান মাহফুজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ আরও অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভৌগোলিকভাবে ভারতের প্রায় এক হাজার মাইল ভূখণ্ড দিয়ে বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানের দুই অংশকে তিনি অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকেও পৃথক হিসেবে দেখেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তফ্রন্ট যে তিনটি বিষয়ের ফেডারেশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে বিপুল বিজয় পেয়েছিল, সেই অঙ্গীকারের বাইরে গিয়ে গণপরিষদ ইচ্ছেমতো সংবিধান প্রণয়ন করতে পারে না—এটাই ছিল তাঁর যুক্তির অন্যতম ভিত্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ১৯৫৬ সালের সংবিধান বিতর্কেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবুল মনসুর আহমদ তখন বলেছিলেন, পাকিস্তানের বড় সমস্যা হলো, ‘আমরা দুই জনগোষ্ঠী, কিন্তু আমাদের এক জাতি হতে হবে।’।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira