নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিমালয়ের সীমান্ত ক্রসিংয়ের উজানে একটি নতুন বাঁধযুক্ত হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক সৃষ্টি হওয়ায় চীন সরকার কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই হ্রদটি ভেঙে গেলে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বর্তমানে চলমান উদ্ধার তৎপরতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। রয়টার্স ও এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চহোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর মোহনায় সৃষ্ট হ্রদটির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন চালাচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বেইজিং ও চেংডু থেকে ফায়ার সার্ভিস এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে, যারা স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরং শহরের মূল অংশে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হলেও বন্দর সংলগ্ন এলাকাগুলো এখনও বিচ্ছিন্ন। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া নেপাল অংশে অন্তত ১০০ চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও তিব্বতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে হিমবাহে সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, যাতে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ নিরাপদ রাখতে এবং নতুন কোনো দুর্যোগ এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
Leave a Reply