পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের চিত্রটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলামসহ আরও ৭-৮ জন শিশু প্রতিদিন বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে পাঁচটি খাল সাঁতরে পার হয়। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তাদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়, যা তাদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
চরকারফারমার দক্ষিণ প্রান্তে ম্যানগ্রোভ বনের পাশে বসবাসকারী এই শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য কোনো সড়ক বা নৌযান নেই। ফলে বছরের বারো মাসই তাদের সাঁতরে খাল পার হতে হয়। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন জানায়, খালের পানিতে শরীর ভেজার কারণে প্রায়ই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার ফলে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাদের পরিবারের কাছে নৌকা থাকলেও তা মূলত মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই যাতায়াতের জন্য সাঁতারই একমাত্র ভরসা।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৬ জন ছাত্র ও ২৫ জন ছাত্রীসহ মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও যাতায়াত ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চরকারফারমা এলাকাটি চারদিকে নদী ও মোহনা দ্বারা পরিবেষ্টিত। গলাচিপা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে বোয়ালিয়া স্লুইসগেট হয়ে আগুনমুখা নদীর তীরে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে খেয়া পার হয়ে দ্বীপে আসার পর আবার পাঁচটি খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় শিক্ষার্থীদের।
মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ৫১ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নেছার উদ্দিন জানান, রাস্তাঘাট না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি মনে করেন, যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহিদা বেগম জানান, চরটিতে প্রায় ৮০টি জেলে ও কৃষক পরিবার বসবাস করে। তিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দিলেও রাস্তা নির্মাণের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু স্বীকার করেছেন যে, স্কুলে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তিনি জানান, বর্তমানে কোনো বরাদ্দ না থাকলেও ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপাল-তিব্বতের বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজদের মধ্যে কোন দেশের কতজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছবিতে নেপালের বিপর্যয়ের আগে-পরের অবস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষ কেন ঘুমের মধ্যে হাঁটে, বিজ্ঞান যা বলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘ভূমিকম্প নয়’, নেপালের বিপর্যয়ের যে কারণ জানাল ইউএসজিএস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সঙ্গে আরও ৭-৮ জন শিশু খালে নামে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই শীত, বর্ষা কিংবা বসন্ত, বারো মাসই খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হয় তাকে ও তার সহপাঠীদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চরকারফারমার দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ বন, এরপরই বঙ্গোপসাগর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিমে রাবনাবাদ নদী, পূর্বে তেঁতুলিয়া নদী এবং উত্তরে আগুনমুখা মোহনা।
Leave a Reply