1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 7, 2026, 8:39 am

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা: এক নজরে বিস্তারিত

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Thursday, August 20, 2026
  • 44 দেখা হয়েছে

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই নির্বাচন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। তবে আদালতের নির্দেশে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল থাকায় তিনি ভোট দিতে পারছেন না।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ। সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭, অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের মোট সদস্য ৯০ জন। বাকিরা স্বতন্ত্র, বিএনপি জোটের শরিক এবং ইসলামী আন্দোলনের সদস্য। অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় তিনি ভোট দিতে পারবেন না, তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি হলেও তিনি সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিলেও অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির কিছু নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে

  1. অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের
  2. দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের
  3. দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে রাষ্ট্রপতি অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মওকুফ বা স্থগিত করতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির পদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তবে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা সম্ভব। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে অপসারণ করা যায়। ২০০২ সালে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ ছিল এ ধরনের প্রক্রিয়ার একটি নজির।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বেশ বিস্তৃত। তাঁর মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। অথচ প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে গেলে সরকারি সুবিধা না পেলেও রাষ্ট্রপতি অবসর বা পদত্যাগের পরও বিশেষ সুবিধা পান। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাজসজ্জার ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। এছাড়া তাঁর জন্য বার্ষিক আপ্যায়ন ভাতা রয়েছে, যার কোনো নিরীক্ষা করা হয় না।

রাষ্ট্রপতির জন্য বছরে দুই কোটি টাকার একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে, যা তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ব্যয় করতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পান। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা ও বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই বিমাসুবিধা ছিল ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার এক অনন্য সংমিশ্রণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিতই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন; যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira