1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 7, 2026, 6:59 am

হরমুজে ইরান কেন চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিচ্ছে?

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, November 7, 2026
  • 13 দেখা হয়েছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছিল তেহরান। আজ শুক্রবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি তেহরান চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এই চার দেশের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ হতো।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জুলাই মাসে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই দেশগুলোর জাহাজ এখন অবাধে চলাচল করতে পারছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোকে বাধা দিচ্ছে না। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক রুজবে পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের আইনপ্রণেতা যে কারণগুলো তুলে ধরছেন, সেগুলোই যদি ছাড় দেওয়ার পেছনের যুক্তি হয়, তাহলে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুস্তাই আল জাজিরাকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তেহরান এই উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।

এই ছাড়ের বিনিময়ে ইরান কিছু সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে। হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্যমতে, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে তেহরান ট্রানজিট ফি আদায় করবে। বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ আমদানি এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাবে ইরান। কাতার এই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় তাদের জাহাজগুলো বিনা মাশুলে চলাচলের সুবিধা পাবে। তবে ইরাকি জাহাজকে কোনো মাশুল দিতে হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। দেশটি আগে থেকেই ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেন, ‘সম্ভবত ইরান এসব জাহাজকে বাধাহীনভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ট্রানজিট ফি বা পণ্যের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আদায় করছে।’। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও জড়িত’, যোগ করেন তিনি। এটি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান তার তেল রপ্তানি ও নৌচলাচলকে পারমাণবিক ইস্যু থেকে আলাদা রাখতে চাইছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে ইরান ভালো পরিমাণে রাজস্ব আয় করতে পারবে। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে, তাই এই রুটের সচলতা বেইজিংয়ের জন্যও জরুরি।

রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য এই চারটি দেশই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে, যার ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে। কাতার ও ইরাকের এলএনজি ও তেল পরিবহনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। তবে অক্টোবরে দেশটি ১৮ লাখ টন এলএনজি পরিবহন করেছে বলে জানান শু। একই সময়ে কাতারের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পরিমাণ দৈনিক ৫ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের ক্ষেত্রে তা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হয়েছে। শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের উৎস শনাক্ত করতে পারেনি কেপলার। তবে ট্রাম্পের আচরণে দুই দেশই হতাশ হয়েছে।’।

রুজবে পারসি মনে করেন, ভারত ও কাতারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও তারা তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য, কারণ ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানকে এড়িয়ে চলা অসম্ভব। ইরাকের ক্ষেত্রে শিয়াপ্রধান এই দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইরান সহায়তা করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, দেশটি এমন এক প্রতিবেশী, যাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’।

তবে এসব জাহাজ আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরকেন্দ্রিক সব জাহাজের ওপর অবরোধ বহাল আছে, তবে যারা বন্দর এড়িয়ে চলবে তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী জাহাজ তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।

পুস্তাইয়ের মতে, যদি ওয়াশিংটন ইরানের এই উদ্যোগ মেনে নেয়, তবে নৌ অবরোধ অকার্যকর হয়ে পড়বে। এ ছাড়া ছাড়ের আওতায় ঠিক কোন ধরনের জাহাজ (পতাকাবাহী, মালিকানাধীন বা পরিচালনাকারী) আসবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে, ‘ইরান থেকে আসা বা ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করা চীন ও ভারতের জাহাজও এই ছাড়ের আওতায় আসবে।’। এর অর্থ জাহাজের নিবন্ধিত পতাকাবাহী দেশ, মালিকানা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নাকি অন্য কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা, তা জানা যায়নি।

জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিললেও নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। গত ৩০ অক্টোবর উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতারের ‘আল মায়েদা’ নামক এলএনজি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্পের পর্যবেক্ষণ হলো, আপাতত এই ছাড়ের প্রভাব সীমিত। বাজার এখনো বড় কোনো শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি সচল রাখার শর্তগুলো নিয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira