
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এক বিরল আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে যারা নিজেদের বিবাহ অনুষ্ঠান বারবার পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, এমন ২৫০টি দম্পতি গত শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। গাজা সিটিতে অনুষ্ঠিত এই গণবিয়ের আয়োজনটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ও আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ ও আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হওয়া দম্পতিদের পাশে দাঁড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই বিশেষ উদ্যোগটির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক সহায়তা সংস্থা। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘অপারেশন নাইটলি নাইট ৩’-এর সহযোগিতায় দম্পতিদের জন্য এই বিবাহের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও জীবন যে থেমে থাকে না এবং ভালোবাসা যে টিকে থাকে, এই গণবিয়ের মাধ্যমে সেই বার্তাটিই বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মানবিক সহায়তা উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট ৩’ -এর সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘থাওব আল ফারাহ’ বা ‘আনন্দের পোশাক’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বর ও কনেরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত ছিলেন। কনেরা ফিলিস্তিনি নকশিকাঁথার আদলে তৈরি সূচিকর্মের পোশাক (তাতরিজ) পরেছিলেন এবং তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল ফুল। অন্যদিকে বরদের পরনে ছিল আনুষ্ঠানিক স্যুট এবং ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে সংগীত, উৎসব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এই আয়োজন কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নতুন সূচনা নয়, বরং প্রতিকূলতার মুখে ফিলিস্তিনিদের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য প্রত্যয়ের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে দাঁড়িয়েও নতুন জীবনের স্বপ্ন বোনা এই ২৫০ দম্পতির জন্য আয়োজনটি ছিল এক অনন্য আবেগপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন, ভালোবাসা ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় যে থেমে নেই, ২৫০ দম্পতির এ গণবিবাহ যেন তারই এক প্রতীক।
Leave a Reply